রামু উপজেলার নৃশংসভাবে খুনের শিকার মোহাম্মদ আলী হত্যা মামলা তুলে নিতে আসামিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদী মোঃ ফেরদৌস ও তার পরিবারকে ভয়ভীতি ও জানে মেরে ফেলার হুমকি এবং সাক্ষীদের মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ইং দিন দুপুরে মধ্যম মনিঝিল ২ নং ওয়ার্ড এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা মোহাম্মদ আলীকে দা’দিয়ে কুপিয়ে এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। উক্ত ঘটনায় নিহত মোহাম্মদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ ফেরদৌস বাদী হয়ে রামু থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে যার মামলা নং-১৩। ফেরদৌস মনিরঝিল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। মোঃ ফেরদৌস জানান, চিকনজিরি নামক স্থানে তাদের নিজস্ব জায়গায় স্থাপিত বর্তমানে খামার,মৎস্যচাষ, গোল্ডলীফ পাতার ক্ষেত ও পানের বরজ সহ বিভিন্ন ধরনের ১৫/২০ লক্ষ টাকার বেশী ব্যবসায়ী সম্পদ রয়েছে। মামলার বাদীদের আসামীরা নিজস্ব ক্ষেত খামারে যেতে দিচ্ছে না। ক্ষেত খামারের আসবাবপত্র, মৎস ঘের এর মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে এবং নির্ভয়ে হত্যা মামলার আসামিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। মামলার বাদীর পক্ষের কাউকে দেখলে ওপেন হুমকি দিচ্ছে। আসামিদের সেলটার দিচ্ছে মনিরঝিল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের তাঁতীলীগ নেতা জাগের হোসেন। এদিকে তিনি হত্যা মামলাটি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্নভাবে চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাদীকে কৌশলে চাপ প্রয়োগ করে আসছে।
বাদীর ছোট ভাই জসীমউদ্দীন জানান,মামলা তুলে নিতে আমার ভাইকে এবং আমাকে হুমকি দিয়ে জানে মেরে ফেলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং আমার খামারের লোক তাড়িয়ে দিয়েছে । প্রশাসনের কাছে জোর দাবি আমরা যেন ক্ষেত খামারের যাইতে পারি এই ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।
নিহতের ভাই নুর মোহাম্মদ বলেন, তারা আমার ভাইকে হত্যা করে এখনো শান্ত হয়নি, আসামিরা দাপটের সহিত ঘুরে বেড়াচ্ছে। হত্যাকারীরা এভাবে ক্ষেত-খামারে যেতে না দিলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে।
নিহতের মেয়ে রোজিনা আক্তার বলেন আমার বাপের বিচার চাই, আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রয়োগ করার জন্য প্রশাসন ও সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।
উক্ত মামলার আসামিরা হল, আব্দু শুক্কুর, আব্দুল মান্নান,আব্দুল হামিদ, কবির আহমদ,মামুনুর রশিদ, গিয়াস উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন, জাহেদ উল্লাহ, সুরত আলম, সাইফুল মালেক, হারুন অর রশিদ, আবু তালেব,ওসমান গনি,আবুল কালাম,মোঃ ইসমাইল, নুরুল আমিন, আমির হোসেন, রিজিয়া আক্তার,সেলিনা আক্তার,ফিরোজা খাতুন,মর্জিনা আক্তার,পরান সোনা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল আজাদ জানান, চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় ২১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে । মামলায় ১জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ২১ জন আসামিদের মধ্যে দুইজন ২জন পুরুষ ও তিনজন মহিলা জামিনে রয়েছে।
তারা জামিনে এসে বাদী ও সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে বলে বাদী জানিয়েছে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্য-উপাত্ত, সাক্ষীদের জবানবন্দী নেয়া হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে খুব শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমন কান্তি চৌধুরী বলেন, পূর্বে অবশ্যই একটি থানায় হত্যা মামলার চলমান রয়েছে এখানে একজন আসামি জেল হাজতে বাকি আশা নিজের করার সহযোগিতা করলে আমরা অবশ্য আটক করব। আসামিরা কেন বাদীকে কেন ক্ষেত খামারে যেতে দিবে না এবং হুমকি দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হুমকি- দিয়ে থাকলে একটি অভিযোগ করে রাখতে পরামর্শ দেন। উক্ত মামলায় কয়জন আসামি জামিন নিয়েছেন জানতে চাইলে বলেন বলেন তদন্ত অফিসার জানবে বলে জানিয়েছেন। এবং মামলাটি তদন্ত চলছে, হত্যায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা করা হবে।