যশোরের অভয়নগরে আওয়ামী লীগের অভয়নগর উপজেলার সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হক বাবুলসহ ১৬৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০/২৫০ জনের নামে একটি নাশকতা মামলা হয়েছে। উপজেলার বুইকরা গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে মোঃ জোবায়ের হোসেন বাদি হয়ে ওই মামলাটি করেছেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিবাদীরা বিগত স্বৈরাচার ও ফ্যসিস্ট আওয়ামী সরকারের সন্ত্রাসী।
বিবাদীরা বেআইনী জনতাবদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন নস্যাতের উদ্দেশ্যে গত ইং-০৪/০৮/২০২৪ তারিখ দুপুর অনুমান ১২:০০ ঘটিকার সময় আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধারালো দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া ০১, ০২, ০৩ ও ০৪ নং আসামীর নের্তৃত্বে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার উপর হামলা করার জন্যে মিছিল সহকারে অভয়নগর থানাধীন নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার পার্শ্বে নওয়াপাড়া ফেরিঘাট চত্বরে সমবেত হয়। মিছিলে থাকা ০৫ ও ০৬ নং আসামী আন্দোলনকারী ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে তাদের হাতে থাকা শটগান দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে, এরপরপরই ০৮, ১০, ১১, ১৪, ১৬, ১৮, ১৯, ২১, ২৪, ২৭, ২৮, ৩২, ৩৩, ৩৫, ১১১, ১২২, ১২৫ ও ১৫১ নং আসামীগন তাদের হাতে থাকা অবৈধ বন্দুক, রাইফেল ও পিস্তল দিয়া বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এছাড়া এজাহারনামীয় আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাদের হাতে থাকা ধারালো রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লাঠিসোটা নিয়া ছাত্র-জনতার উপর ঝাপাইয়া পড়ে। একপর্যায়ে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে আসামীরা ফেরীঘাট চত্বর এলাকায় হাইওয়ে রাস্তার উপরে কয়েক জায়গায় টায়ার ও কাঠে অগ্নিসংযোগ করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে, নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও তার পার্শ্ববর্তী দোকানপাট ভাংচুর করে অনুমান ১৫-২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং বোমার বিস্ফোরন ঘটাইয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। উল্লেখিত মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হল। উপজেলার সিংগাড়ী গ্রামের মৃত শেখ আব্দুল হকের ছেলে সাবেক হুইপ শেখ আব্দুল ওহাব (৭৫), উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের মৃত মকছেদ আলী ফারাজীর ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল (৭২), একই গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে সরদার অলিয়ার রহমান(৬৫), গুয়াখোলা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন গোল্ডেন(৬০), উপজেলার রাজঘাট গ্রামের মৃত অর্জুন কুমার দাসের ছেলে সুশান্ত কুমার দাস শান্ত(৫০), নওয়াপাড়া (স্টেশন বাজার) এলাকার মৃত ননী বৈরাগীর ছেলে রবিন অধিকারী ব্যাচা(৫০), উপজেলার ধোপাদী গ্রামের মৃত রহিম মোল্লার ছেলে আব্দুর রউফ মোল্লা(৫৫), একই গ্রামের মৃত তোরাব নাড়ই, এর ছেলে তালিম হোসেন(৫০)। অভয়নগর যশোরসহ ১৬৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেছেন। বাদি তার মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন সাক্ষীদের কাছে শুনিয়া এবং সিসিটিভি ফুটেজ সহ মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও দেখিয়া আসামী সনাক্ত সহ আসামীদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করিয়া থানায় আসিয়া এজাহার দায়ের করিতে বিলম্ব হইল। এবিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এমাদুল করিম বলেন একটি মামলা হয়েছে তদন্ত মোতাবেক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত আছে।