অভয়নগরে এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় লাশ রেখে পালিয়েছে স্বামী। পরে ওই লাশটি উদ্ধার করেছে অভয়নগর থানা পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পরিবারের লোক থানায় যোগাযোগ করলে আনুমানিক ১৩ (অক্টোবর) ভোর রাত ৩টার দিকে উপজেলার আড়পাড়া গ্রাম থেকে গৃহবধু প্রীতি মন্ডলের (১৯) লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয় এবং ময়না তদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রীতি মন্ডল উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নের ডহরমশিহাটি গ্রামের উত্তম মন্ডলের মেয়ে।
প্রীতি মন্ডল বর্তমানে অনার্স প্রথম বর্ষে বাংলা বিভাগে যশোর মহিলা কলেজে পড়াশুনা করতেন। স্বামী সৌমিত্র ধর সুন্দলী ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের অমর ধরের ছেলে। সৌমিত্র ধর পেশায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত আছেন।
প্রীতি মন্ডলের বাবা উত্তম মন্ডল জানান, মেয়ের স্বামীর বাড়ি থেকে খরব পায় আমার মেয়ে মারা গেছে। সাথে সাথে আমরা তার স্বামীর বাড়ি আড়পাড়াতে যায়। যেয়ে দেখি খাটের উপর মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে। পরে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
প্রীতির পরিবারের লোকের দাবী, পরিকল্পিত ভাবে মেয়েকে হত্যা করে পালিয়েছে তার স্বামী। এমনকি তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থাও করেনি তার পরিবার।
প্রীতির দাদা হরিনাথ কুমার বলেন, ২বছর আগে পরিবারের অমতে সৌমিত্র ধরের হাত ধরে প্রীতি মন্ডল তাদের বাড়ি চলে যায়। সৌমিত্রের পরিবার নিজেদের দ্বায়িত্বে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করে। বিয়ের পর থেকেই সৌমিত্রের পরিবার তাকে মেনে নিতে পারতো না। প্রায় তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। স্বামী ও তার পরিবার মিলে তাদের বোনকে মেরেছে। পরে তারা বাড়ি থেকে সবাই পালিয়েছে। এখন মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে। গলায় ফাঁশ দেওয়ার কথা বলে।
প্রীতির শাশুড়ি স্বপ্না মন্ডল বলেন, তাদের বৌমা নিজেই গলায় শাড়ি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এবিষয়ে
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আকিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ভোর রাত ৩ টার সময় লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়না তদন্তের জন্য যশোর মর্গে পাঠানো হয়েছে। রির্পোট পেলে প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।