দেশজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নওগাঁর রাণীনগরে অতিমাত্রায় বিদ্যুতের লোডশেডিং এ জনজীবন দূর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়েছে।
প্রতিদিনই সকাল থেকে সন্ধ্যা ও রাতে উপজেলা সদরে ৪ থেকে ৫ বার লোডশেডিং করা হলেও গ্রামাঞ্চলে ৬ থেকে ৮ বার লোডশেডিং করা হচ্ছে। ফলে দিন-রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে অর্ধেক সময়ই বিদ্যুৎ পাচ্ছে না গ্রাহকরা।
রাণীনগর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ রাণীনগর জোনাল অফিসের আওতায় এ উপজেলায় প্রায় ৬২ হাজার ৫শ’ গ্রাহক রয়েছে। উপজেলা সদরে ও আবাদপুকুর এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের দুুইটি সব-স্টেশন আছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুইটি সাব-স্টেশনকে ১২টি ফিডারে বিভক্ত করা হয়েছে। আর এসব ফিডারের মাধ্যমে সকল গ্রহকদের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে প্রচন্ড তাপদাহ, ভ্যাপসা গরম আর সেই সাথে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং এ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম, চালকলে চাল উৎপাদন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। এছাড়া কাজ শেষে বাড়িতে ফিরে শান্তি মত বিশ্রামও নিতে পাড়ছে না মানুষ। এ লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য ব্যক্তি এবং হাসপাতালে ভর্তিরত ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাণীনগর পল্লী বিদ্যুতের বহু গ্রাহক বলছেন, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে আসার কোন সময় থাকে না। দেড় ঘন্টা পর আসলেও কিছু সময় পর আবার লোডশেডিং করা হচ্ছে। দিন-রাতে সমান তালে লোডশেডিং চলে। ফলে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের।
তারা আরও বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় সময় মত জমিতে পানি সেচও দিতে পারছেন না গভীর নলকূপ ও অগভীর নলকূপের অপারেটররা। ফলে ধানের ফলন নিয়ে দুচ্ছিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রাণীনগর জোনাল অফিসের এজিএম এম. তাহসিন ইলিয়াস বলেন, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।