মঙ্গলবার , ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

অভয়নগরে রাস্তা সংস্কার বন্ধ থাকায় জন দূর্ভোগ চরমে, উদাসীন কর্তৃপক্ষ 

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

যশোরের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর, নড়াইলের কালিয়া,নড়াইল সদর উপজেলার সাথে এ দু’টি সড়কের যোগসূত্র রয়েছে। দশ লক্ষাধিক লোক  চলাচল করে এ ২ টি সড়ক দিয়ে। চলাচল বিপজ্জনক হলেও কর্তৃপক্ষ নীরবতা পালন করছে।

এডিবি’র অর্থায়নে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্ধে  অভয়নগরের  প্রায় ১২ কি.মি.দীর্ঘ এ ২ টি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয় দু’বছর আগে। কিন্তু নির্মাণ কাজ অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে চলে। নওয়াপাড়া -মশিয়াহাটী সড়কে ৪০% এবং শংকরপাশা- ভাটপাড়া সড়কে ২০% কাজ সম্পন্ন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ মে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার মধ্যে এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে। আর এ কারণেই ভোগান্তি আর দুর্ঘটনার সূত্রপাত। সংগত কারণে জনরোষ বাড়ছেই।

রুরাল কানেটিভিটি ইমপ্রæভমেন্ট প্রজেক্ট (আর সি আই পি) এর মাধ্যমে এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে  সড়ক দু’টি নির্মাণ করার জন্য  অর্থ বরাদ্ধ দেয়।  এতে মোট ব্যয় বরাদ্ধ রাখা হয় ২৩ কোটি,৩৪ লাখ,২১ হাজার ৫ শ’২৯ টাকা। এর মধ্যে অভয়নগরের নওয়াপাড়া টু মণিরামপুরের মশিয়াহাটী সড়কের ৭ দশমিক ৩০০ কি.মি সড়ক নির্মাণে বরাদ্ধ হয়  ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার ৮ শ’৫০ টাকা এবং বাঘুটিয়া ইউনিয়নের শংকরপাশা টু ভাটপাড়া(ভৈরব নদের তীর এলাকা) দীর্ঘ ৪ দশমিক ৮১০ কি.মি. সড়ক নির্মাণে বরাদ্ধ হয় ৮ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৬ শ’৭৯ টাকা। মেসার্স মৈত্রী বিলডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে ৭/১২/২২ খ্রি: তারিখে কাজ শুরু করে। কাজ শেষ করার কথা ৩১ মে’২০২৪। প্রায় দেড় বছর কাল ঢিলেঢালাভাবে কাজ চলতে থাকে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মেয়াদ বৃদ্ধিসহ ওয়ার্কপ্লান জমা দিয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। তা’ছাড়া স্থানীয়দের দাবি,মশিয়াহাটী-নওয়াপাড়া সড়কের ২৪২০ মিটার দীর্ঘ অংশে কোন কাজই করেনি ঠিকাদার। অধিকাংশ স্থানে পুরাতন রাস্তার খোয়া ভেঙ্গে নতুনের সাথে মিকচার করে দেওয়া হয়েছে। প্লাসাইডিংসহ মাটি ভরাট,আড়াই কি.মি. ইটের খোয়া দেওয়া,মাটি ফেলা ও কার্পেটিং কাজ বাকি রয়েছে। অপরদিকে শংকরপাশা- ভাটপাড়া সড়কের  অধিকাংশ জায়গায় পুরানো ইট উঠিয়ে জড় করা রাখা হয়েছে । ২/২ কালভার্ট ২ টির নির্মাণ কাজ এখনো শুরুই হয়নি। এর কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে নির্মাণ কাজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের মেয়াদ না বাড়ানোর কারণে তারও এলাকায় আসছেন না। রাস্তার অবস্থা নাজুক। ইতোমধ্যে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫৬ হাজার ১ শ’ ১৭ টাকার  পেমেন্ট পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। ২য় চালানের ১ কোটি ৫৬ লাখ ১৯ হাজার ৬ শ’ ৫৯ টাকার চেক পাস হয়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল হুদা জানান, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্তে¡ও আমলে নিচ্ছে না। কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে। পেমেন্ট সেটেলমেন্ট সম্পন্ন হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে কার্যাদেশ বাতিল করা ছাড়া আর কোন উপায় খোলা নেই। স্থানীয় সরকার  প্রকৌশল অধিদপ্তরের যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মেদ মাহবুবুর রহমানের সংগে ০১৭০৮১২৩২০১ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়।  কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুনের সাথে  বারবার যোগাযোগ করা হয়। তিনিও ফোন রিসিভ করছেন না। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরও বারবার ফোনে যোগাযোগ করেছে,কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তারা সাড়া দিচ্ছেনা।  ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি,মেয়াদোত্তীর্ণ কাজের ওয়ার্কঅর্ডার বাতিল করে সড়ক দু’টি দ্রুত নির্মাণ  অথবা সময় বর্ধিত করে পূর্বের ঠিকাদারকে দিয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হোক।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।