মঙ্গলবার , ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ - বসন্তকাল || ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

কলেজ শাখার জন্য মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে পরিসংখ্যানের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেবেন বলে ভুয়া নিয়োগপত্র এবং ভুয়া যোগদান পত্র দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছেন তিনি। তাকে নিয়োগও দিচ্ছেন না, আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।

প্রভাষক পদের জন্য জাহাঙ্গীর নামের আর একজনের কাছ থেকে নিয়েছেন ৩ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। এছাড়া মাহবুব রহমানের কাছ থেকে ৪ লক্ষ, আনোয়ারুল হকের কাছ থেকে ৩ লক্ষ, রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৪ লক্ষ, শের এ গোলাম এর কাছ থেকে ৩ লক্ষ, শ্রী প্রার্থনাথের কাছ থেকে ২লক্ষ টাকা নিয়েছেন কিন্তু কোনো নিয়োগপত্র ও এমপিও ভুক্তির জন্য কোন কাগজপত্র পাঠাননি তিনি-এমন অন্তত সতেরোটি অভিযোগ রয়েছে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কলেজ গভর্নিং বডির সদ্য বিদায়ী সভাপতির বিরুদ্ধে। সব মিলে ৩২ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা সাথে ১০শতক জমি প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়াও কলেজের ফান্ড তছনছসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বিলাসী জীবন-যাপন করছেন রাণীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা (জুয়েল) ও কলেজ গভর্নিং বডির সদ্য বিদায়ী সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ সিরাজুল ইসলাম (বাবলু)। এবিষয়ে আইনগত প্রতিকার চেয়ে গতকাল জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন দায়ের করা হয়েছে যাতে ১৭জন ভুক্তভোগী স্বাক্ষর করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ জি এম মাসুদ রানা (জুয়েল) এবং কলেজ গভর্নিং বডির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম (বাবলু)। দুজন মিলে গত ২৪ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ ও কলেজ ফান্ডের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তারা দুজন পরষ্পর আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই হওয়ায় দু’জন মিলে এসব চাকুরী প্রার্থীকে ভুয়া নিয়োগপত্র ও যোগদান পত্র প্রদান করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আবার কোন কোন পদে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে আগের প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নতুন করে বেশি টাকা নিয়ে চাকুরী প্রদান করেছেন। ডিগ্রী পর্যাযে শুধুমাত্র অর্থ আত্মসাথের অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সার্কুলার দিয়ে টাকাগুলো আত্মসাৎ করেছেন।

১০শতক জমি দিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন অফিস সহকারী ছিলেন হামিদুল ইসলাম। তিনি জানান, তিনি এমএ পাস, তার কোন ৩য় বিভাগ নেই। ২০০০ সালে নিয়োগের সময় ২টি পদের বিপরীতে ৩জনকে নিয়োগ দিয়ে কৌশলে তার বেতন করেননি অধ্যক্ষ। ২৪ বছর পরে যখন তার বেতন হওয়ার সুযোগ এসেছে তখন ১৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দিয়ে এমপিওভুক্তির চেষ্টা করছেন এই অধ্যক্ষ।

কলেজটির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী বলেন, অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানাকে ১ লক্ষ ৮০ টাকা দিয়ে টাকা ফেরত পেতে এখন ঘুরছেন দিনের পরদিন। আবার টাকা দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কলেজে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে ক্লাস নিয়েছেন। কিন্তু তার কোনো নিয়োগপত্র দেননি এবং এমপিওর জন্য তার কোনো কাগজপত্র পাঠানো হয়নি। আর পাঠানো হলেও কখনো বিল বেতন হবেনা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজ গভর্নিং বডির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম (বাবলু) প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মাসুদ রানার উপর টাকার দায় চাপিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টাকা পয়সা যা নেয়া হয়েছে সেটা কলেজের উন্নয়নে খরচ করা হয়েছে। তবে যেসব শিক্ষকের বিল বেতন হয়নি এবং অনেকদিন থেকে বিনা পারিশ্রমিকে ক্লাশ করছেন তারা টাকা ফেরতের জন্য গতকাল আমার কাছে এসেছিল।

এদিকে গত ৫ আগষ্টের পর থেকে অধ্যক্ষ তার কর্মস্থল থেকে পলাতক থাকায় কলেজে তাকে পাওয়া যায়নি। একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে কল এবং খুদে বার্তা দিলেও তিনি রিভি করেননি।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সোহেল রানা বলেন, এ বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি যেখানে প্রায় ১৭ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন। দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।