যশোরের অভয়নগরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে এবার বাজার মনিটরিংয়ে নেমেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পাশাপাশি তারা বাজার মনিটরিং শুরু করেছেন। শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে উপজেলার নওয়াপাড়া বাজরের বিভিন্ন স্থানে মনিটরিংয়ে যান সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও দ্রব্যমূল্যের তালিকা পর্যবেক্ষণ করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছেন। এতে কমছে পণ্যের দাম।
এ সময় কাঁচামাল, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, মসলাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যাচাই করেন। তাদের অতিরিক্ত মূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি না করার আহ্বান জানান। যদি কোনো পণ্যের দাম অযথা বাড়ানো হয়, তবে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আজিবার গাজি জানান, কাঁচা মরিচসহ সব সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। ২০০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। এ ছাড়া অন্য সবজির দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা কমেছে।
উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারে আসা ক্রেতা রুবেল হোসেন জানান, নানা অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়। তবে শিক্ষার্থীদের তৎপরতায় দাম তো বাড়েনি, বরং বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। শিক্ষার্থীরা যদি ঘন ঘন বাজার মনিটরিং করলে পণ্যের দাম আরও কমে আসবে।
নওয়াপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর গণি সরদার বলেন, শিক্ষার্থীরা যে ভূমিকা রেখেছে, এর জন্য তাদের আমরা স্যালুট জানাই। আমরাও ব্যবসায়ীরা তাদের সহযোগিতা করতে চাই।
উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সিয়াম আহমেদ বলেন, নওয়াপাড়া বাজারে তদারকি করতে এসেছিলাম। বাজারে জিনিসপত্রের দামের তদারকি করেছি। দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানোর অনুরোধ করেছি। বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে।
এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম আবু নওশাদ বলেন, বিক্রেতাদের বেশি দামে পণ্য বিক্রি না করার জন্য অনুরোধ করছি। শিক্ষার্থীরা যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের যদি কোন সহযোগিতার প্রয়োজন হয় আমরা তা পূরণ করবো।