যশোরের অভয়নগরে ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের দুর্নীতির শেষ কোথায়? অভয়নগর উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অফিসারের কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত কার্ডের চাউল নিয়ে রকমারি কারসাজির একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ইউনিয়নে মোট ৩০ কেজি চালের ভিডাব্লিউবি চালের কার্ডধারী ২৭০ টি পরিবার যার মধ্যে প্রায়ই ১৭০ টি কার্ড বিভিন্ন অনিয়ম কারসাজিতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে ভূয়া ভাবে তৈরি করে চাল আত্মসাৎ করা হচ্ছে। জানা গেছে, চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের একক ছত্রছায়ায় সংরক্ষিত ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের নারী ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার লিজা নামে বেনামে ওই কার্ডে অনিয়মভাবে চাল তুলে আত্মসাৎ করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম আত্মীয় করণসহ যে অসহায় গরীব মানুষের চাল পাওয়ার কথা থাকলেও যাদের ওই চালের সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা না তাদেরকে চালের কার্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি ওই চালের কার্ডের আওতায় কোন সরকারি চাকরিজীবি আসার নিয়ম না থাকলেও চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম ও মেম্বারদের কারসাজিতে সেটাও দেওয়া হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে আরোও জানা গেছে, সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা ৬ নং ওয়ার্ডের হিদিয়া গ্রামের ইজিবাইক চালক মোঃ কেসমত বিশ্বাসের স্ত্রী সোভা খানম সরকারি চাকরি করেন যার কার্ড নং ১৯৯ তাকেও দেওয়া হয়েছে ৩০ কেজি ফ্রি চালের কার্ড। সূত্রে আরোও জানা গেছে অধিকাংশ ৩০ কেজি ফ্রি চালের কার্ডে নাম ঠিকানা আছে, মানুষ নেই। কেউ ভারতে কেউ এলাকার বাইরে রয়েছে। তাদের চাল চেয়ারম্যান জহুরুল ও মেম্বারগণের যোগসাজশে আত্মসাৎ করে লুটে নেন। অন্যদিকে উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারকে ওই ৩০ কেজি করে মাসে ফ্রি চাল দেওয়া হয়। ওই কার্ডের আওতায় আসতে হলে হতদরিদ্র হতে হবে এবং কার্ড প্রতি ২২০ টাকা করে সঞ্চয় জমা করতে হবে। যা ২ বছর পর সঞ্চয়ের টাকা ফেরত দেওয়া হয়। তারই সুযোগ নিয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের যোগসাজশে হতদরিদ্রের চাল নিয়ে চালবাজির কোন শেষ নেই। জরুরি সরেজমিনে ওই ইউনিয়নের ভিডাব্লিউবি কার্ডধারীদের চালের কার্ড যাচাইসহ তদন্ত করে অনিয়ম দুর্নীতি মুক্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি করেছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়নের ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার লিজার মুঠোফোনে 01755873082 নং এ একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলার ৭ নং শুভরাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ জহুরুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরকম কোন ঘটনা আমার ইউনিয়নে নেই বা কেউ এমন অভিযোগও আমাকে করেনি।
অভয়নগর উপজেলা মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রাজ কুমার পাল বলেন, এমন ঘটনা আমার জানা নেই, তবে আপনাদের কাছে তথ্য থাকলে দিবেন আমরা ব্যবস্থা নিব এবং বিষয়টি আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি, সত্য হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।