দেবোত্তর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম হেলালের অফিস কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি কম্পিউটার, ইউপিএস, স্ক্যানার, ওয়াই-ফাই সংযোগসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে ভূষ্মিভূত হয়েছে। শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে কলেজের পিয়ন শাজাহান আলী অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে গন্ধ পান। পরে দরজা খুলে ভেতরে আগুন দেখতে পান। এরপর তিনি দ্রুত বিষয়টি কলেজের কেরানি রফিকুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানান।
কলেজের কেরানি রফিকুল ইসলাম বলেন, “সকালে পিয়ন শাজাহান আলী আমাকে ফোন করে জানান, অধ্যক্ষের কক্ষে আগুন লেগেছে। পরে আমি তাকে দ্রুত বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে বলি। এরপর আগুন নিভে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আটঘরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিদুল ইসলাম, আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার কলেজটি পরিদর্শন করেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম হেলাল বলেন, “অগ্নিকাণ্ডে আমার অফিস কক্ষের কম্পিউটার, ইউপিএস, স্ক্যানারসহ গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কলেজের প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কক্ষটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নতুন করে ডেকোরেশন ও সংস্কারকাজ করতে হবে, যা বেশ ব্যয়বহুল।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিদুল ইসলাম বলেন, “অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কলেজটি পরিদর্শন করেছি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।”
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার বলেন, “দেবোত্তর ডিগ্রি কলেজে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”