[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

নাগরপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতি ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালিকাভুক্ত দলিল লেখক (সনদ নং- ৭৯৩) মোঃ মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে জমির খারিজ (নামজারি) করিয়ে দেওয়ার নামে দলিল জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
​শনিবার (২৪ অক্টোবর) ২০২৬ সকালে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
​ভুক্তভোগী ধুবড়িয়া পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ মোঃ মাছেম আলী (৭০) জানান, তিনি তার ৪২ শতাংশ জমির খারিজ করানোর জন্য সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মোঃ মতিয়ার রহমানের কাছে যান। কাগজপত্র দেখার পর মতিয়ার রহমান দাবি করেন, দলিলের ‘জমির শ্রেণি’ এবং ‘খতিয়ান নম্বরে’ ভুল রয়েছে। এগুলো সংশোধন করে খারিজ করে দিতে হলে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে, অন্যথায় খারিজ করা সম্ভব নয়।
​মাছেম আলীর অভিযোগ, তাকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই টাকা নেওয়া হয় এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়। বলা হয়, অফিসে কোনো যোগাযোগ করলে কাজ বিলম্বিত হবে এবং টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না।
পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি নামজারি আবেদন (মামলা নং: ১০৩১(IX-I)২০২৬-২৭, আবেদন নং: ১৬১৮৮৪২১) জমা দেওয়া হয়।
​পরবর্তীতে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ভুক্তভোগীকে মূল দলিলসহ তলব করেন। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর মূল দলিলে খতিয়ান নম্বর ১০৪৫ এবং জমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনে খতিয়ান নম্বর ১০৮৮ এবং শ্রেণি ‘কান্দা’ উল্লেখ করা হয়েছে।
​এ বিষয়ে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, “অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনের সাথে মূল দলিলের তথ্যের কোনো মিল ছিল না। আবেদনটিতে দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় আমি এটি নামঞ্জুরের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেছি।”
​কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ মাছেম আলী বলেন, “আমি অসুস্থ, চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে ভাতিজার কাছে জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু নামজারি না হওয়ায় দলিল বুঝিয়ে দিতে পারছি না। মতিয়ার চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন। আমি দ্রুত নামজারি শেষ করে জমি বিক্রি ও নিজের চিকিৎসা করাতে চাই।”
​এদিকে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ধুবড়িয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যক্তি। তিনি মুঠোফোনে অভিযোগ করে বলেন, তার ১৬ শতাংশ জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে সাবেক এই চেয়ারম্যান তার কাছ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
​অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মোঃ মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।