মৃত্যুর পরও মানুষের ভালো কাজগুলো কীভাবে বেঁচে থাকে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখাল বীরগঞ্জ।
“বিপন্ন মানবতার পাশে”এই স্লোগানকে ধারণ করে বিশিষ্ট ঠিকাদার, ক্রীড়াবিদ, ও সমাজসেবক মরহুম আজমল হকের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো সম্পূর্ণ মানবিক এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) বীরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির হলরুমে আজমল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ১৪ জন প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হলো হুইলচেয়ার। হুইলচেয়ারগুলো পাওয়ার পর উপকারভোগী ও তাদের স্বজনদের মুখে যে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে, সেটাই ছিল এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
আজমল হক কেবল একজন নাম ছিলেন না তিনি ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এক মানুষ। রাজশাহী কলেজের এই মেধাবী শিক্ষার্থী একজন ক্রীড়াপ্রেমি মানুষ ও একজন দক্ষ খেলোয়াড়। তিনি ১৯৮৭ সালে জাতীয় দৌড় প্রতিযোগিতায় পুরো বাংলাদেশে মধ্যে তৃতীয় স্থান অর্জন করে বীরগঞ্জকে গর্বিত করেছিলেন। পরবর্তীতে একজন সফল ঠিকাদার ও সমাজসেবক হিসেবে তিনি নিজেকে জড়িয়েছিলেন মানুষের কল্যাণে। আজ তাঁর এই ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে আজমল হক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মেহেদী হাসান সজল সেই স্মৃতিগুলোকে সামনে এনে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীরগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আমিরুল বাহার বলেন, “অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার মানবিক দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ তাঁদের চলাচলের পথকে সুগম করার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় পজিটিভ পরিবর্তন আনে।
পৌর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মীর কাশেম লালুর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম, সুভাষ দাস, ফজলে আলম শাহীন, মো. কামরুল হাসান, মো. মামুনুর রশিদ মামুন ও মো. আবুল কাশেম প্রমুখ।
স্মৃতিচারণ আর মানবসেবার মধ্য দিয়ে দিনটি প্রমাণ করলেন মানুষের ভালোবাসায় আজমল হকের মতো ভালো মানুষেরা কর্মের মধ্য দিয়ে আজীবন বেঁচে থাকেন।