নওগাঁর রাণীনগরে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর তৎপর হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের পর সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তারা। নিম্নমানের ইটের খোয়া সরিয়ে মানসম্মত খোয়া ব্যবহার এবং বালু-খোয়ার নির্ধারিত অনুপাত বজায় রেখে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপজেলার একডালা ইউনিয়নের পূর্ব কয়া পাড়া থেকে সরদার কয়া ও বড়িয়া পাড়া স্কুল মাঠ পর্যন্ত ১ হাজার ১১০ মিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ চলছে। সম্প্রতি এ কাজে নিম্নমানের খোয়া ও অতিরিক্ত বালু ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। কোথাও কোথাও ঝাওয়ামিশ্রিত খোয়া ব্যবহারের অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনায় নির্মাণকাজে নিয়মিত তদারকি শুরু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগ ওঠা অংশগুলোতে ব্যবহৃত নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নতুন করে মানসম্মত খোয়া দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণসামগ্রীর অনুপাত ও কাজের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নিফল আলী (৪০) বলেন, রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। এতে আমাদের অনেক ভোগান্তি হয়েছে। এবার সরকারি উদ্যোগে কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। কাজটি ভালোভাবে শেষ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।
আরেক বাসিন্দা সোলাইমান আলী (৬০) বলেন, আগে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে রাস্তা মেরামত করে কোনোভাবে চলাচল করতাম। এখন সরকারিভাবে কাজ হচ্ছে। রাস্তার পাশেই আমার বাড়ি হওয়ায় প্রতিদিন কাজ দেখতে পাচ্ছি। বর্তমানে আর কোনো অনিয়ম চোখে পড়ছে না। এভাবে কাজ চললে একটি টেকসই রাস্তা পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শুভাশীষ রায় বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর আমরা সরেজমিনে গিয়ে কাজ পরিদর্শন করেছি। যেসব জায়গায় অনিয়ম ছিল, সেগুলো সমাধান করে মানসম্মতভাবে কাজ করানো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও নিয়মিত কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে, যাতে কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে।
স্থানীয়রা বলছেন, গণমাধ্যমে নির্মাণকাজের অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট। তাঁদের প্রত্যাশা, সড়কের বাকি কাজও নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন হবে এবং নির্মাণের পর দীর্ঘদিন সড়কটি ব্যবহার উপযোগী থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সড়কটির ১ হাজার ১১০ মিটার অংশ কার্পেটিংয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কাজটির ঠিকাদারি পেয়েছে মেসার্স খান ট্রেডার্স। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।