সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে।কোথাও পিচ-খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত ও খানাখন্দ, কোথাও বৃষ্টির পানি জমে পরিণত হয়েছে ছোট ছোট জলাশয়ে।আবার কোনো কোনো এলাকায় এখনো পাকা সড়কের দেখা মেলেনি।এতে শিক্ষার্থী, কৃষক,ব্যবসায়ী,রোগী,চালক ও যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ,বছরের পর বছর সড়কগুলোর এমন দুরাবস্থা চললেও কার্যকর সংস্কার বা উন্নয়নের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সলঙ্গা-তাড়াশ সড়ক যেন মরণফাঁদ…
সলঙ্গা থানা মোড় থেকে আমশড়া-নুনিয়ার পাড় পর্যন্ত প্রায় ৪-৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি-কাদা জমে ঝুঁকি আরও বাড়ছে।বনবাড়িয়া, চারা বটতলা,রৌহাদহ,আমশড়া ও নুনিয়ার পাড় এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।সিএনজি,ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।দ্রুত সংস্কারের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
১৫ গ্রামের ভরসা নিমগাছী সড়ক…
সলঙ্গা-নিমগাছী সড়কেও দীর্ঘদিন ধরে বড় গর্ত,ভাঙাচোরা অংশ ও উঠে যাওয়া খোয়ার কারণে দুর্ভোগ চলছে।প্রায় ১৫ গ্রামের মানুষ এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল।কৃষকদের ফসল সলঙ্গা ও নিমগাছী হাটে নিতে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে।বিশেষ করে সলঙ্গা বাজারের মোহাম্মদ আলী মার্কেট থেকে মোতব্বরের রাইস মিল পর্যন্ত অংশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সড়কে জমে থাকে।
পুকুরের পেটে যাচ্ছে পাকা সড়ক…
আমশড়া-জোড়পুকুর বাজার থেকে মালতিনগর আমতলা পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,সড়কের পাশের পুকুরগুলোতে মাছ চাষ ও পাড় সম্প্রসারণের কারণে বর্ষায় সড়কের অংশবিশেষ ভেঙে পুকুরে বিলীন হচ্ছে। কোথাও উঠে গেছে ইট-খোয়া।সড়ক রক্ষা,দ্রুত সংস্কার এবং পুকুর সম্প্রসারণের অভিযোগ তদন্তের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
বেহাল ঘুড়কা সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক…
সলঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে ঘুড়কা হাইস্কুল পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কটির অবস্থাও নাজুক।বর্ষায় খানা-খন্দে পানি জমে এবং বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও সরু অংশ থাকায় যানবাহন চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে।প্রায় ১৫-২০ গ্রামের মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে দ্রুত সংস্কারের দাবী তাদের।
ক্ষতিগ্রস্ত সলঙ্গা-হাটিকুমরুল সড়ক…
সলঙ্গা-হাটিকুমরুল সড়কের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ,ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচলে সড়ক নষ্ট হচ্ছে।বিশেষ করে হাটিপাড়া ব্রিজ থেকে হাটিকুমরুল বাজার পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে ভাঙাচোরা অংশে পানি জমে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভারী যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দাবী উঠেছে।
খামারীগ্রাম আগরপুরে পাকা সড়কের অপেক্ষা…
নুনিয়ার পাড় থেকে রাহার বাড়ি মসজিদ হয়ে দরগা কবরস্থান পর্যন্ত সড়কটি এখনও পাকা হয়নি।বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁচা রাস্তা কাদায় পরিণত হয়।এতে কৃষিপণ্য,ব্যবসায়িক মালামাল ও খামারের খাদ্য পরিবহনে সমস্যা হয়।অসুস্থ ও গর্ভবতী নারীদের চলাচলেও দুর্ভোগ বাড়ে।একটু বৃষ্টি হলেই মনে হয় এটা রাস্তা নয়,যেন আবাদি জমি।দীর্ঘদিনের এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত সড়কটি পাকা করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উন্নয়নের অপেক্ষায় বেতুয়ার রাস্তা…
চারা বটতলা থেকে বেতুয়া গ্রামের সড়কের কিছু অংশ পাকা হলেও গ্রামের ভেতর দিয়ে মালতিনগর সংযোগ সড়কটি এখনো কাঁচা।বছরের অধিকাংশ সময় কাদা-পানিতে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সিএনজি,ভ্যান-রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলেও চরম ভোগান্তি হয়।এলাকাবাসীর দাবী,দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা,জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সলঙ্গা থানা এলাকার এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়কের জরুরী সংস্কার,প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং কাঁচা সড়কগুলো পাকাকরণের কার্যকর উদ্যোগ নেন।