পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিবপুর ত্বাহা ইসলামীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ইবতেদায়ি শাখার- অভিভাবক সদস্য পদে মো. আব্দুল মজিদ, আলিম শাখায়- আব্দুল খালেক এবং ফাজিল শাখায়- নুরুল হক নির্বাচিত হয়েছেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, তিনটি পদে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ৮৭৭ জন ভোটারের মধ্যে ৫৯৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ১৮টি ভোট বাতিল হয়।
ইবতেদায়ি শাখার- অভিভাবক সদস্য পদে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মো. আব্দুল মজিদ ১৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রবিউল ইসলাম ১৪৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় এবং জাহাঙ্গীর আলম ১৩১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
আলিম শাখায়- দুজন প্রার্থীর মধ্যে আব্দুল খালেক ৩৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ২৫ ভোট।
অন্যদিকে, ফাজিল শাখায়- দুজন প্রার্থীর মধ্যে নুরুল হক ৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ইউনুছ আলী পেয়েছেন ২৫ ভোট।
ভোটাররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। সকাল থেকেই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রার্থী, ভোটার ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন পাবনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন সদর উপজেলা একাডেমিক শিক্ষা সুপারভাইজার পারভিন আক্তার।
নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, “শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে শিবপুর ত্বাহা ইসলামীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পুলিশ ও আনসার সদস্যরা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করেছেন। সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা পর্যন্ত সব কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে।”
শিবপুর ত্বাহা ইসলামীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গোলাম ইয়াছিন বলেন, “অত্যন্ত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অভিভাবক সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।
নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমরা আনন্দিত। নবনির্বাচিত অভিভাবক সদস্যরা মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করছি।”