গ্রেফতারকৃত ইমন মিয়া বাসাইল উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলী মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় মামলার আসামি ইমনের বাবা ইদ্রিস আলী মিয়া, মা নাজমা বেগম ও বড় বোন ছাবিনা আক্তার পলাতক রয়েছে। অপহরণের শিকার ওই ছাত্রী বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মামলা ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার সময় গ্রেফতারকৃত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমন ওই ছাত্রীকে উক্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি ইমনের পরিবারকে জানানো হয়। জানানোর পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এক পর্যায়ে গত ৪ আগস্ট বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বাসাইল সাহাপাড়া ব্রিজের কাছে পৌছালে মামলার আসামি ইদ্রিস আলী, নাজমা বেগম ও ছাবিনা আক্তারের সহযোগিতায় ইমন ওই ছাত্রীকে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে অপহরণ করে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বাসাইল থানা পুলিশকে জানানো হয়। এরপর থেকে পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের তৎপরতা চালায়। এরপর ১০ আগস্ট ইমন মিয়াকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও একজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশ ও র্যাব ওই ছাত্রীকে উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের জন্য জোরেসুড়ে মাঠে নামে। এক পর্যায়ে ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধার ও প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেফতার করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- ইমন একজন কিশোরগ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীসহ পর্যটন এলাকা বাসুলিয়ায় নারীদের উক্ত্যক্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় মারামারির সঙ্গে জড়িতের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সে মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, ‘অপহৃত স্কুলছাত্রীকে ঢাকার দক্ষিণখান থানা পুলিশ উদ্ধার ও মামলার প্রধান আসামি ইমনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদেরকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ বাসাইল থানায় হস্তান্তর করে। মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতারকৃত ইমনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর ওই ছাত্রীকে শারীরিক পরীক্ষা ও জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’