[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

আদালতের রায়েও মিলছে না দখল, নিরাপত্তাহীনতায় জাহানারা

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬

স্বামীর দেওয়া জমি ও বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ দুই সৎ সন্তানের বিরুদ্ধে; ভয়ভীতি ও মারধরের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন। যশোরের অভয়নগরে স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া বসতবাড়ির জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন জাহানারা বেগম নামের এক বিধবা নারী। তাঁর অভিযোগ, স্বামীর প্রথম স্ত্রীর দুই সন্তান মুরাদ হোসেন ও জিন্নাত সরদার দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বৈধ মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হয়ে রায় পাওয়ার পরও তিনি সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ দখল ফিরে পাননি বলে দাবি করেছেন। সম্প্রতি প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জাহানারা বেগম। আবেদনে জাহানারা বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী মৃত মুজিবর রহমানের দুই স্ত্রী ছিলেন। তিনি ছিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর কোনো সন্তান নেই। স্বামী জীবিত থাকাকালে যশোরের অভয়নগর থানার ৭৪ নম্বর বর্ণী মৌজায় আরএস ৯০২ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বসতবাড়ির জমির একটি অংশ তাঁর নামে নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করে দেন। আবেদন অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশ হিসেবে আরও জমি পাওয়ার দাবি করেন জাহানারা। পরে নিজের নামে নামজারি করে সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও ভোগদখল করে আসছিলেন তিনি।

‘জোর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়’

জাহানারার অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর প্রথম স্ত্রীর সন্তান মুরাদ হোসেন ও জিন্নাত সরদার অসৎ উদ্দেশ্যে তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের চেষ্টা শুরু করেন। তাঁকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া এবং নানাভাবে হয়রানি করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করে নিজ বসতবাড়ি থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে সম্পত্তির দখল ও নিরাপত্তার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন জাহানারা। তাঁর দাবি, মামলার শুনানি ও বিচার শেষে আদালত তাঁর পক্ষে রায় দেন এবং বিবাদীদের জমি ছেড়ে দিয়ে তাঁকে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ভোগদখলের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। রায় পাওয়ার পরও দখল বুঝে পাচ্ছেন না জাহানারার অভিযোগ, আদালতের রায় তাঁর পক্ষে যাওয়ার পরও বিবাদীরা সেই আদেশ মানছেন না। আদালতের রায় কার্যকর করতে জমির দখল বুঝে নিতে গেলে তাঁকে আবারও মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেও কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেছেন জাহানারা। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমেও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিবাদীরা সালিশ মেনে নেননি এবং তাঁদের আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাঁর।

আবেদনে জাহানারা বলেন, তিনি একজন অসহায় ও নিঃসন্তান বিধবা নারী। বিবাদীদের অব্যাহত দখলচেষ্টা, ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও নিজের বৈধ সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পারায় তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, আদালতের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাঁর বৈধ সম্পত্তির শান্তিপূর্ণ দখল বুঝিয়ে দেওয়া এবং তাঁর জানমাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন। বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে গেলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি না হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এবিষয় অভয়নগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অশিষ কুমার জানান, সমাধানে তারা আসলেন না, ওই বিষয়েটি সরেজমিনে তদন্ত করে যে বাস্তবতা পাওয়া গেছে,  সেই বিষয় উল্লেখ করে জেলা মহোদয়কে অবগতা করা হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।