ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার ৫নং রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের মন্ডলদাম গ্রামে আঙুরের চারা উৎপাদন করে তাক লাগিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা জুয়েল রানা। তার নার্সারি এখন এলাকার কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার নাম।
জানা যায়, প্রথমবার আঙুর চাষে নেমেই সফলতা পান জুয়েল ও তার সহযোগীরা। বর্তমানে তার নার্সারিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের প্রায় এক থেকে দুই হাজার আঙুরের চারা রয়েছে। বাইকুনুর, সিলভা, অ্যাপোলো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বো, ডিক্সন ও ভ্যালজসহ জনপ্রিয় জাতগুলো স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগী করে উৎপাদন করছেন তিনি।
জুয়েল রানা জানান, নার্সারি থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০টি চারা বিক্রি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা এসে চারা কিনছেন এবং চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন। আয়ও হচ্ছে ভালো। আরও চারা উৎপাদনের জন্য নতুন করে জমি প্রস্তুতের কাজ চলছে।
আটোয়ারী পল্লী বিদ্যুৎ থেকে চারা কিনতে আসা রিপন ইসলাম বলেন, শুনে এসেছি এখানে ভালো মানের চারা পাওয়া যায়। ২টি জাতের চারা ১ হাজার টাকায় কিনেছি। ফলন ভালো হলে আরও নেব।
জুয়েলের সাফল্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আঙুর চাষের আগ্রহ বাড়ছে। অনেকে তার বাগান ঘুরে চারা উৎপাদন ও পরিচর্যা সম্পর্কে জানছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র রায় বলেন, জুয়েল রানা চমৎকার সাফল্য পেয়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতেও সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, সঠিক সহযোগিতা পেলে রুহিয়ায় আঙুর চাষ ও চারা উৎপাদন ভবিষ্যতে বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। জুয়েল রানার মতো উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে এ অঞ্চলে তৈরি হবে নতুন উদ্যোক্তা ও বিকল্প আয়ের পথ।