[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

মণিরামপুরে মধ্যযুগীয় কায়দায় ধর্ষণের অভিযোগ, ১৯ দিনেও মামলা নেই, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬
‎থানায় অভিযোগের ১৯ দিন পার হলেও নেই কোন অগ্রগতি মোটা অংকের টাকায় ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা’র অভিযোগ কতিপয় রাজনৈতিক ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ! ‎যশোরের মণিরামপুরের মনোহরপুরে এক কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব, অপহরণ, হাত-পা ও মুখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আটকে রাখা এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের পরে হাত পা ও মুখ বেধে ভুক্তভোগীর গোয়াল ঘরে ফেলে দিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  ‎এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে অভিযোগটি কি তদন্তের আড়ালে পড়ে আছে, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে? ‎‎মণিরামপুর উপজেলার মনোহারপুর  দক্ষিণ আলী এলাকার এক কিশোরীর লিখিত অভিযোগে প্রতিবেশী এক কিশোরের বিরুদ্ধে এসব গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
‎অভিযোগপত্রে ওই কিশোরী উল্লেখ করেছে, একই এলাকার মামুন মোল্ল্যার ছেলে তৌহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। একপর্যায়ে সে প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার পর অভিযুক্ত তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে ওই কিশোরী প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ খোঁজা এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকে  । ‎গত ২৭ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কিশোরীর বাড়ির কাছে গিয়ে তাকে ডেকে বাইরে বের হতে বলে এবং বিভিন্নভাবে ব্লাকমেইল করতে থাকে । পরবর্তীতে ওই কিশোরী  বাইরে আসার পর তাকে পেছন থেকে জোরপূর্বক ধরে তার পরনের ওড়না দিয়ে হাত ও মুখ বেঁধে অভিযুক্ত তৌহিদুলের বাড়িতে নিয়ে যেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ।
‎‎পরবর্তীতে ওই কিশোরীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ভুক্তভোগীর গোয়ালঘরে  ফেলে রেখে যায় ধর্ষক তৌহিদুল  ।  এ সময় কাউকে বিষয়টি জানালে তাকে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি ও দেয় অভিযুক্ত ধর্ষক। পরে কিশোরীর দাদি তাকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে একাধিক ব্যক্তি অবগত রয়েছেন বলে জানাগেছে । ‎ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মণিরামপুর থানায় ৩০ জুন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে  লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের একটি অনুলিপি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। কিন্তু অভিযোগ দায়েরের পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ও কার্যকর আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ‎‎এদিকে এ ঘটনায় নেহালপুর পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ অলক বিশ্বাস জানান ঘটনার বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত পরিবারকে একাধিকবার বলা হয়েছে বিষয় টি ভুক্তভোগী মেয়ের জন্মনিবন্ধন নিয়ে এসে এজাহার দায়ের করার জন্য ,  কিন্তু সে বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কর্ণপাত করেনি, বরং  স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করছে।
‎‎সূত্র  বলছে পাঁচ নেতার গেড়াকলে আটকে আছে বিষয়টি।  মেয়ে পক্ষের দাবি পাঁচ লাখ টাকা  কিন্তু ছেলেপক্ষ দিতে চাইছে একলাখ টাকা। এ নিয়ে এই ঘটনায় মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া পাঁচ নেতার মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এবং এই  আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি মীমাংসা বা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ‎তবে অন্যদিকে অভিযোগ দেওয়ার পর হঠাৎ করে কিশোরীর পরিবার নীরব হয়ে গেছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী দাবি করছে। কেন একটি গুরুতর অভিযোগের পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আর কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই? তাদের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না, সমঝোতা বা আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, কিংবা রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব খাটানো হয়েছে কি না এসব প্রশ্নের উত্তরও এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। ‎‎এবিষয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, আমি অভিযোগ দেওয়ার পরেও পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের কোন সহায়তা বা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। স্থানীয় মাতুব্বররা আমাদের হুমকি দিচ্ছে। এব্যাপারে ছাদিয়া সুলতানা সুমির মা জানান, অভিযোগ করার পর স্থানীয় নেতারা আমাদের অভিযোগ তুলে আনতে অনেক চাপ সৃষ্টি করছে, আমরা গরীব অসহায় মানুষ ভয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারছিনা। এব্যাপারে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাইদ বলেন, আদেও ওই রকম ঘটনা ঘটেছে কি না আমার জানা নেই,  অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ওই ঘটনার কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। ‎এ বিষয়ে পুলিশ সুপার যশোর সৈয়দ রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‎বিষয়টি আমার জানা নেই, অভিযোগের কপিটা আমাকে একটু দেন, আমি মনিরামপুর থানার ওসির সাথে কথা বলতেছি।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।