পাবনার ঈশ্বরদীতে কারখানার শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও শ্রমিক অধিকার আদায়ের দাবিতে দাশুড়িয়ায় অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কারখানার শ্রমিকরা পাবনা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা দিকে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বেতন বৃদ্ধি, শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। এ সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়ায়েব, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম তুহিন, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শ্রমিক প্রতিনিধি ও কারখানা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনায় শ্রমিকদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতন নির্ধারণ, প্রভিডেন্ট ফান্ড চালু, কর্মস্থলে অঙ্গহানির শিকার শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ ও সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্ববেতনে চাকরি বহাল রাখা, মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটি ও ভাতা নিশ্চিত করা, সরকারি ছুটির দিনে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা, দুপুরের খাবারের সময় ওভারটাইমের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা, নিয়মিত পে-স্লিপ প্রদান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, অসুস্থ শ্রমিকদের জন্য ট্রলি ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা ও ওষুধের মানোন্নয়ন, শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনে বাধা না দেওয়া, ওভারটাইমের হার সর্বনিম্ন ৭০ টাকা নির্ধারণ, তিন কর্মকর্তা—শৌরভ, শুভ ও শরিফকে অপসারণ এবং দেশের প্রচলিত শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন। এ ছাড়াও শ্রমিকরা তাঁদের ১৫ দফা দাবি সাত কর্মদিবসের মধ্যে বাস্তবায়নেরও দাবি জানান এই আন্দোলনকারীরা। প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন স্থগিত করে কাজে ফিরে যান।
[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]
ঈশ্বরদীতে প্রাণ-আরএফএল কারখানার শ্রমিকদের বেতন ভাতার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬