[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

জনসেবার আড়ালে অর্থ আত্মসাৎ? প্রেমবাগ ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘিরে তোলপাড়

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
প্রেমবাগ ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খোকনের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগে তোলপাড়।

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ১ নং প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিমউদ্দীন খোকনের বিরুদ্ধে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের নামে কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বাস্তবে নিম্নমানের বা অসম্পূর্ণ কাজ করে বিপুল পরিমাণ টাকা লোপাট করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাঞ্জেখানা নির্মাণে সরকারিভাবে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে মাত্র দুটি জানালা ও একটি দরজার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে এলে তড়িঘড়ি করে প্লাস্টার কাজ শুরু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সামান্য কাজ দেখিয়েই পুরো বরাদ্দ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই পাঞ্জেখানার মূল কাজ আগেই সম্পন্ন করেছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান মফিজ উদ্দীন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি দায়িত্ব ছাড়লে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান জসিমউদ্দীন খোকন। এরপর থেকেই বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ বাড়তে থাকে।

এছাড়াও প্রেমবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুরপাড় বাঁধাই প্রকল্পে মাটির দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কয়েক গাড়ি মাটি ফেলে দায়সারা কাজ করা হয়েছে। পুকুরের অবস্থা আগের মতোই রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, প্রেমবাগ শ্রী শ্রী রূপ সনাতন ধামের রাস্তা সংস্কারের জন্য ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ২ লাখ টাকার কাজও সম্পন্ন হয়নি। বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়নজুড়ে গাছ লাগানোর কথা থাকলেও অধিকাংশ গাছ লাগানো হয়েছে চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ির সামনে। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজেও তিনি একক সিদ্ধান্তে কাজ করছেন এবং ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করছেন না। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এছাড়া অসহায় দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত চালের কার্ড নিয়েও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারের তিন সদস্য, রবিউল, শফিকুল ও আকবর আলীর নামে তিনটি পৃথক কার্ড দেওয়া হয়েছে, যা নিয়মবহির্ভূত। ভিজিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র নারীদের সঞ্চয়ের টাকা থেকেও প্রায় ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিস থেকে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও এখনো সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনসেবার দায়িত্বে থাকা একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তিনি নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং নানা কৌশলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন। এসব অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিমউদ্দীন খোকন বলেন, আমি আমার ইউনিয়নে ভালো কাজ করছি। আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি কোনো ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগগুলো তদন্তে কী পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।