জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর আওতায় পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (২০২৬ জুলাই) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ টিকাদান কর্মসূচিতে ১০ বছর বয়সী ও নির্ধারিত বয়সসীমার কিশোরীদের এক ডোজ করে এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিকাদান কর্মীরা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে টিকা প্রদান করেন। টিকাদান শেষে শিক্ষার্থীদের কিছু সময় পর্যবেক্ষণেও রাখা হয়।
টিকাদান কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ আমিরুল ইসলাম, পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার, গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ সেলিনা খাতুন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণ থেকেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সার হয়ে থাকে। নির্ধারিত বয়সে এইচপিভি টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই টিকা বিশ্বব্যাপী পরীক্ষিত, নিরাপদ ও কার্যকর।
গোড়লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ সেলিনা খাতুন বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।”
স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, “জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা অত্যন্ত কার্যকর। নির্ধারিত বয়সে টিকা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়। তাই যোগ্য সব কিশোরীকে সরকারের বিনামূল্যের এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এনে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।”
পরিবার কল্যাণ সহকারী শারমিন আক্তার বলেন, “এইচপিভি টিকা সম্পর্কে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে অভিভাবকদের সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানাই।”
এ সময় স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের টিকা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানান এবং কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ মেনে নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ১০ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে এক ডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের প্রকোপ কমিয়ে নারীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।