সিদ্ধিপাশা গ্রামটির ভৌগোলিক অবস্থান বেশ বৈচিত্র্যময়। যশোর জেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত এই গ্রামটির দক্ষিণ ও পশ্চিমে খুলনা জেলা এবং পূর্ব দিকে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা। গ্রামটির পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ঐতিহাসিক ভৈরব নদ এবং দক্ষিণে ঘেঁষে রয়েছে মুজতখালী নদী। নদীবেষ্টিত ও তিন জেলার মিলনস্থলে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রামটির অধিকাংশ সুবিধাই যেন থমকে আছে কাঁচা রাস্তার কাদাজলে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়া অসুস্থ রোগীরা। বকুলতলা থেকে সিদ্ধিপাশা ইন্সটিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী এক স্কুলশিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে। বৃষ্টির দিনে হেঁটে স্কুলে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাদায় জুতো আটকে যায়, জামাকাপড় নষ্ট হয়। অনেক সময় রাস্তা পিছলে পড়ে অনেকে আহতও হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় কোনো মুমূর্ষু রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়। কাঁচা রাস্তায় কোনো যানবাহন চলতে না পারায় চরম বিপাকে পড়তে হয়। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে অনেক সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। কৃষি ও নদীনির্ভর এই এলাকার অর্থনীতি মূলত স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল। তবে যাতায়াত ব্যবস্থা করুণ হওয়ায় কৃষকরা তাঁদের কষ্টের ফসল সঠিক সময়ে বাজারে তুলতে পারেন না। যানবাহন চলাচল না করায় পরিবহন খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়, যার ফলে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বরাবরই উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে কিছুটা পিছিয়ে এই সিদ্ধিপাশা। গ্রামবাসীর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় বারবার রাস্তা পাকা করার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয় না বললেই চলে। এলাকাবাসীর পক্ষে এক প্রবীণ বাসিন্দা বলেন, আমরা তিন জেলার সীমান্তে বাস করি বলেই কি আমাদের দাবি কারও চোখে পড়ে না? বকুলতলা থেকে মুজত খালি ঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি জরুরি ভিত্তিতে পাকা করা না হলে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি কখনোই কমবে না।
অবিলম্বে বকুলতলা থেকে মুজতখালী ঘাটসহ সিদ্ধিপাশার সমস্ত কাঁচা রাস্তা পাকা করে এই অঞ্চলের মানুষকে বছরের পর বছর ধরে চলা অবর্ণনীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক এটাই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজি ইডি ) এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসীর দাবি।