বিয়ের প্রলোভনে লাখো টাকা হাতিয়ে বিদেশ পাড়ি, মৃত্যুর পরও অধিকার মেলেনি, সৎপুত্রের প্রতিশ্রুতি ভেস্তে যাওয়ার অভিযোগ। যশোরের অভয়নগরে এক হৃদয়বিদারক মানবিক ট্র্যাজেডির চিত্র সামনে এসেছে। আমেরিকান প্রবাসী প্রফেসর মরহুম ফকির আব্দুর রাজ্জাকের বৈধ স্ত্রী হয়েও আজ পথে পথে ঘুরে শাড়ি-কাপড় বিক্রি করে জীবন চালাতে হচ্ছে লায়লা বেগমকে। অথচ তার স্বামীর রেখে যাওয়া কোটি কোটি টাকার সম্পদ ভোগদখল করছেন অন্য ওয়ারিশরা, এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীর। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী প্রফেসর ফকির আব্দুর রাজ্জাক ২০১৫ সালের ৩০ জুন নড়াইল জেলার বরাশুলা গ্রামের লায়লা বেগমকে ৩ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করেন।
বিয়ের সময় তাকে আমেরিকা নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সেই স্বপ্নে বিভোর হয়ে লায়লা বেগম স্বামীর হাতে নগদ ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা তুলে দেন, যার পরপরই প্রফেসর আবার আমেরিকায় ফিরে যান। কিন্তু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন তো দূরের কথা, ধীরে ধীরে যোগাযোগও কমে যায়। একসময় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন লায়লা।
জানা গেছে, লায়লা বেগম ছিলেন ফকির আব্দুর রাজ্জাকের তৃতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বড় ছেলে মোস্তফা ফারুক বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছেন। ২০২৪ সালে প্রফেসরের মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে আনা হয়। সেই সময় নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায় লায়লা স্থানীয় সাংবাদিকের দ্বারস্থ হন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রফেসরের ছেলে মোস্তফা ফারুক তখন মৌখিকভাবে আশ্বাস দেন, দাফনের পর বসে বিষয়টি সমাধান করবেন। এমনকি ১০ লাখ টাকায় মীমাংসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন লায়লা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আজও কোনো সমাধান হয়নি। বরং লায়লার দাবি, স্বামীর লাশটাও আমাকে দেখতে দেয়নি, এখন তার সম্পদের অংশ তো দূরের কথা, বেঁচে থাকাটাই কঠিন হয়ে গেছে। কোটি টাকার সম্পদ, অথচ পথে পথে জীবন লায়লা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামীর কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। কিন্তু আমি সেই সম্পদের ন্যায্য অংশ না পেয়ে রাস্তায় ঘুরে শাড়ি বিক্রি করে জীবন চালাচ্ছি। এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক জটিলতা দীর্ঘদিনের হলেও বিষয়টি এখনো আইনি নিষ্পত্তির মুখ দেখেনি। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মল্লিক বলেন, মোস্তফা ফারুক অনেক আগেই বিষয়টি সমাধানের কথা দিয়েছিল। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।
অন্যদিকে অভিযুক্ত মোস্তফা ফারুক বিদেশে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
সবশেষে লায়লা বেগম সমাজের সচেতন মহল ও প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, আমি আমার স্বামীর সম্পদের ন্যায্য অধিকার চাই। জীবনের শেষ সময়ে অন্তত সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই।
এই ঘটনাটি শুধু একটি পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং প্রবাসী বিয়ে, প্রতারণা ও নারীর অধিকার বঞ্চনার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আইন অনুযায়ী বৈধ স্ত্রী হিসেবে লায়লা বেগম তার স্বামীর সম্পত্তিতে অংশীদার, তবে বাস্তবে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা এখনও অনিশ্চিত। এবিষয়ে প্রবাসী মোস্তফা ফারুকের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।