যশোরের অভয়নগর উপজেলায় টাকার অভাবে থমকে দাঁড়িয়েছে এক ভ্যানচালকের জীবন। সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করা ধোপাদী গ্রামের ঋষি পল্লির বাসিন্দা দূর্প বিশ্বাস (৩৫) বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটাচ্ছেন।
তিনি নওয়াপাড়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাদী গ্রামের বাসিন্দা ধীরেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। পেশায় ছিলেন ভ্যানচালক, যার উপার্জনেই চলতো তার পরিবার। প্রায় পাঁচ মাস আগে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন দূর্প। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ স্থানান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঢাকায় টানা চার মাস চিকিৎসা করাতে গিয়ে তাদের সহায়-সম্বল যা কিছু ছিল, সবই বিক্রি হয়ে গেছে। জমিজমা, গৃহস্থালির মালামাল বিক্রি করেও চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে এক মাস আগে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা দিনদিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। পরিবারের দাবি, তার একটি পা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে (ফ্র্যাকচার), যা সম্পূর্ণ সুস্থ করতে জরুরি অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা সংগ্রহ করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। দূর্প বিশ্বাসের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেই ছিল আমাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ। এখন তিনি নিজেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আমরা কোথায় যাবো, কার কাছে সাহায্য চাইবো, কিছুই বুঝতে পারছি না। বর্তমানে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের অভাবে কার্যত তার চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে প্রতিটি দিন তার জন্য হয়ে উঠছে আরও ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকাবাসী জানান, মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো এই অসহায় ভ্যানচালকের জীবন বাঁচানো সম্ভব। তারা দেশের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, সমাজসেবী ও সহৃদয় মানুষের কাছে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা (বিকাশ):
০১৯৩৭৮৮০৪৮৪ (পার্সোনাল)
মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন দূর্প বিশ্বাস, এমনটাই আশা তার পরিবার ও এলাকাবাসীর।