র্যাব-৫-এর বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুর রহমান রতন শাহ(৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে রাজশাহী রাজপাড়া থানা এলাকার দাসপুকুর ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫।
র্যাবের একটি সূত্র জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও অভিযোগের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিশেষ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে রতন সহ কয়েকজন অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ীরা রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকা হতে মাদক ও অস্ত্র আমদানি ও সরবরাহ করতে গিয়ে র্যাব-৫ বিশেষ টিম অনুসন্ধান পাওয়ার পর রতন কে রাজশাহী হতে গ্রেফতার করে রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন।
উল্লেখ্য যে, কিছুদিন পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায় সে বর্তমান বাংলাদেশের সরকার বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করে বলেন “আমার চেয়ে খাঁটি বিএনপি তারেক রহমানও না” এমন মন্তব্যে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে অফলাইন ও অনলাইনে সমালোচনা শুরু হয় এবং তার আর একটি ভিডিও তে দেখা যায় তাকে বলতে যে অচিরেই রাজশাহীবাসী জানবে রতনের পিছনের ইতিহাস। সেও আরো বলে রতন আসলেই জাত মাস্তান। সে কখনো দলের কোনো সিনিয়র নেতাদের সম্মান করে নাই বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আজিজুর রহমান রতন শাহর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, জমি ও পুকুর দখল এবং মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। এবং গত ২০০০ সাল থেকে ২০০৮ সাল পযন্ত বিএনপি ক্ষমতা থাকাকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাভাইয়ের দুর্ধর্ষ ক্যাডার ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, রতন ২০১৭ সালে নারায়নগঞ্জের চিনি ভর্তি একটি সিলেট গামী ট্রাক সহ চিনি চিনতাই করে বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর মোল্লা পাড়া হাটে বিভিন্ন লোকজনের কাছে বিক্রি করেছিল। রতনের বিরুদ্ধে নারায়নগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের হলে নারায়নগঞ্জের ডিবি অফিসার মফিজুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন যায়গায় অভিযান চালিয়ে রতন কে সিলেট জাফলং থেকে অস্ত্র সহ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠালে রতন দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে আসে।
এছাড়াও চিনির ট্রাক ডাকাতির মামলায় তাহেরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মানিক নামের একজন সহ কয়েকজন সহযোগী ছিলো। কিছুদিন পরে মানিকও গ্রেফতার হয়েছিল। এবং চোরাই চিনি কেনার অপরাধে মোল্লাপাড়ার ইউনুস নামে একজন গ্রেফতার হয়ে ছিল। এমন অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার ও বিএনপি করায় রাজনৈতিক মামলা থাকায় দীর্ঘদিন নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করেছেন বর্তমানে চিনির ট্রাক ডাকাতি মামলাটি চলমান রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর
রতন নিজ গ্রাম রামসার কাজীপুর গ্রামে নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এর ২০ বিঘা জমির পুকুর দখল করে প্রথমে ২৭ লক্ষ টাকার মাছ মেরে বিক্রয় করে এবং পুকুরের পাড়ে কলা বিক্রি করে ১০ লক্ষ টাকার।
রতন চেয়ারম্যান আসাদের সেই পুকুর দখল করতে গিয়ে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এর বড় ভাই ফয়সাল বাবা আনিসুর রহমান শাহ ভাতিজা রাগিব চাচা আঃ মোমিন ও চাচাতো ভাই রায়হান বাধা দিতে গেলে রতন সন্ত্রাসীদের নিয়ে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। তারা প্রাণ ভয়ে পাশের ক্যানেলে পানির মাঝে ঝাঁপিয়ে পরলে লোকজন এসে উদ্ধার করে পুঠিয়া এলাকায় টুলটুলি পাড়া গ্রামে বাবলুর বাড়ীতে আশ্রয় নিলে রতনেরা আবার বাবলুর বাড়ী ঘেরার করে তাদের গুলি করতে গেলে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয় এবং সেনাবাহিনী তারা রতনদের উপর পাল্টা গুলি করলে রতনেরা পালিয়ে জীবন রক্ষা পায়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ১১টি মোটরসাইকেল জব্দ করেন সেনাবাহিনী। পরে তা নলডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
সেই পুকুর রতন এখনো দখল করে মাছ চাষ করা অব্যাহত রেখেছে।
এই পুকুর কে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এর চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম ও মহিদুল ইসলাম কে রতন সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে রামসার কাজীপুর আমতলি বাজারে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হাত পা ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। তারা নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করে কোন রকম মানবেতর জীবন যাপন করছে।
চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ এবং তার পারিবারের সকলেই ৫ আগষ্টের পর থেকে পালিয়ে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
রতনের বিরুদ্ধে বাড়ীঘর পোড়ানো লুট খুন ছিনতাই চাঁদাবাজি সহ ২০ এর অধিক মামলা মোকদ্দমা চলমান রহিয়াছে।
উল্লেখ্য যে, রতনের বড় মায়ের বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক শাহ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক, আব্দুর রাজ্জাক, নাজিবুর রহমান, ওহিদুর রহমান মিন্টু ওরফে রবিন হুড এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বাংলা ভাইয়ের শস্বস্ত্র কয়াডার বাহিনী ছিলো। এবং নিজ গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই ও আব্দুর রহমানের নির্দেশো গ্রামে টর্চার সেল (ক্যাম্প) বানিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের বাড়ী থেকে ধরে গাছের সাথে বেঁধে ও হাতে পায়ে লোহার পেঁড়েক মেরে নির্যাতন করতো এবং পিটিয়ে রক্তসক্ত করে চাঁদা আদায় করতো।
উল্লেখ্য যে, আজিজুর রহমান রতন শাহ তার বাবা নাদের আলী শাহ এর দখলদারী, ডাকাতি ও তার দুই মামা লুলু ও নান্নুর ডাকাতির সূত্র ধরেই রতন একই ধারাবসহিকতায় ডাকাতি ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়াও রতন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী তার কাছে সব সময় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন করে থাকে। বর্তমান রতনের বিবাহিত বউ ২ টা। প্রথম বিবাহ করে রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার রায়াপুর গ্রামে দ্বিতীয় বিবাহ করে যশোর সেই বউ নিয়ে রাজশাহী বাসায় থাকাকালীন সময়ে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।
এদিকে বিএনপির একটি দলীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে রতন শাহকে দলের কোনো সাংগঠনিক পদে রাখা হয়নি। তবে এ বিষয়ে দলের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।