পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা মোছাঃ রেখা খাতুন বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক মোঃ আঃ সালামকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন ২০২৩ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকার সময় উপজেলার ধোপাদাহ ইউনিয়নের হলদঘর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন এবং বাড়িতে কিশোরীটি একা ছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে মোঃ আঃ সালাম ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে একা পেয়ে নিজ বাড়িতে জাম খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীকালে ঘরের ভেতর দোচালা টিনের ঘরে চৌকির উপর নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
পরবর্তীতে গত ১৯ জুন ২০২৩ তারিখ বিকেলে ভুক্তভোগীর মা ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরলে, ২০ জুন ২০২৩ তারিখ বিকেলে কিশোরীটি তার মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে ভুক্তভোগী পরিবার নিরুপায় হয়ে ২২ জুন ২০২৩ তারিখে সাঁথিয়া থানায় হাজির হয়ে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। পুলিশ উক্ত এজাহারটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় মামলা রুজু করে (মামলা নম্বর-১৮, তারিখ: ২২/০৬/২০২৩)।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আনিছুর রহমান অভিযোগ ফর ফর জানান, “অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে মামলাটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে তাৎক্ষনিক রুজু করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত আসামি মোঃ আঃ সালামকে গ্রেপ্তার করেছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”