অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে রোগীর জীবন, বাড়ছে জনমনে উদ্বেগ। যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের পরিবর্তে ফার্মাসিস্ট দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে সরেজমিনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, অসীম কুমার বাড়ই নামে একজন ফার্মাসিস্ট রোগীদের চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরামর্শ ও সেবা দিচ্ছেন। উপস্থিত রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এটি কোনো একদিনের ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে এভাবেই চলছে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে রাতের বেলা, সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে দুর্ঘটনায় আহত বা গুরুতর অসুস্থ রোগীরা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে রোগীদের দ্রুত যশোর সদর হাসপাতাল বা খুলনার বড় চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে বাড়ছে অতিরিক্ত সময়, ভোগান্তি ও অর্থ ব্যয়।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি বিভাগে এসে যদি ডাক্তারই না পাওয়া যায়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? ফার্মাসিস্ট দিয়ে কি চিকিৎসা সম্ভব? স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফার্মাসিস্টরা মূলত ওষুধ ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও বিতরণে প্রশিক্ষিত। রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও জরুরি চিকিৎসা প্রদান সম্পূর্ণভাবে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের দায়িত্ব। এ ধরনের অনিয়ম রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্ব পালনরত ফার্মাসিস্ট অসীম কুমার বাড়ই বলেন,
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকে রোগী দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে রোগী দেখা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্যার বলতে পারবেন। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, ফার্মাসিস্ট ওষুধ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হলেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া তার দায়িত্ব নয়। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তা নীতিবহির্ভূত।
তবে তাকে এ দায়িত্ব কে বা কীভাবে দিয়েছে, এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি শুধু দায়িত্বহীনতার পরিচয় নয়, এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকারকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা দ্রুত জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভয়নগরের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগ যদি এমনভাবে পরিচালিত হয়, তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না, এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।