পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রেস ক্লাবের বিপরীতে দুটি পৃথক কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করায় সাংবাদিক মহল ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসন, সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং একটি গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গঠনের লক্ষ্যে নবরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ভাঙ্গুড়া স্মৃতিসৌধ চত্বরে ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান।
সভায় স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রেস ক্লাবের দ্বৈত কমিটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভ্রান্তি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সাংবাদিকরা বলেন, একই নামে পৃথক দুটি কমিটি থাকায় বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান, প্রশাসনিক সভা ও পেশাগত কার্যক্রমে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শুধু সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্কেই প্রভাব পড়ছে না, বরং ভাঙ্গুড়ার সাংবাদিকতার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. রায়হান আলীর সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আপনেন সঞ্চালনায় মত বিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান, ভাঙ্গুড়া থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সুব্রত, প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি আইনুল হক, প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন, রেজাউল করিম এবং সুজন আহমেদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহ ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, একটি শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাব গঠন করা গেলে সাংবাদিকরা আরও স্বাধীন ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবেন। একই সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ, অনিয়ম ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণমাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সকলের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করার দাবি জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের এই সাংগঠনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে ভাঙ্গুড়ায় একটি ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর প্রেসক্লাব গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় ভাঙ্গুড়ার সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, পেশাগত ঐক্য, দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।