পালানোর আগেই ডিবির জালে শাহ মাহমুদ, আইনজীবীর সহায়তায় ভারতে পলায়নের পরিকল্পনার চাঞ্চল্যকর তথ্য।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া নৌবন্দরের আলোচিত ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি শাহ মাহমুদকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। রোববার (১৭ ম গভীর রাতে যশোর শহরের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ মাহমুদ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পাশাপাশি একজন আইনজীবীর সহায়তায় ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। নিহত আনিছুর রহমান নওয়াপাড়া বাজারের পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ‘জয়েন্ট ট্রেডিং’ নামক প্রতিষ্ঠান এবং ‘আনিস প্লাজা’ নামে একটি বহুতল মার্কেটের মালিক ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শাহ মাহমুদ ওই মার্কেট ও বাসাবাড়িতে ভাড়া নিতে চাইলে আনিছুর রহমান তাতে অসম্মতি জানান। এ থেকেই শুরু হয় বিরোধ, যা শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়। গত ৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আনিছুর রহমানকে তার বাড়ির সামনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে শাহ মাহমুদ। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর থেকেই শাহ মাহমুদ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। সে নওয়াপাড়ার পীরবাড়ি এলাকার শাহ জোনায়েদের ছেলে।
এই হত্যাকাণ্ডে নওয়াপাড়া বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে তারা আন্দোলনে নামে। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ একাধিক টিম গঠন করে অভিযানে নামে। পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ‘মুকিত’ নামের এক আইনজীবীর সহায়তায় শাহ মাহমুদ ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করছিল। এজন্য তাকে যশোর শহরের একটি বাসায় রাখা হয়েছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে রোববার গভীর রাতে ওই বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশি পালানোর পরিকল্পনার বিষয়টিও স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে ডিবির ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।