কাটতেই বের হচ্ছে পচা গন্ধ, রেললাইনের ওপর অবৈধ বাজারে চলছে বিষাক্ত বাণিজ্য, প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন। যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার নূরবাগ রেললাইনের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ মাছ বাজার যেন এখন প্রতারণার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তাজা মাছের আড়ালে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে পচা ও মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মাছ। সরেজমিনে দেখা যায়, নওয়াপাড়া রেলস্টেশনের আশপাশে রেললাইনের ওপরই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে অসংখ্য মাছের দোকান। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এই অবৈধ বাজার দীর্ঘদিন ধরে চলছে। প্রতিদিন বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জমজমাট এই বাজারে দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের টার্গেট করে চলছে প্রতারণার এক নীরব সিন্ডিকেট। বাইরে থেকে চকচকে ও তাজা দেখালেও, মাছ ঘরে নেওয়ার পরই বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ বাস্তবতা, তীব্র পচা গন্ধ আর অস্বাভাবিক নরম মাংস। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাজারের অনেক মাছেই ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ফরমালিন বা অন্যান্য রাসায়নিক। এমনকি মাছ সংরক্ষণের বরফেও মেশানো হতে পারে এসব রাসায়নিক, যাতে পচা মাছও দেখতে সতেজ মনে হয়। ভুক্তভোগী ফরহাদ বলেন, মাত্র ১০ মিনিটের পথ পেরিয়ে বাসায় গিয়ে মাছ কাটতেই অসহ্য পচা গন্ধ বের হয়। ধোয়ার সময় মাছের অংশ পানির সঙ্গে গলে যাচ্ছিল। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক না।
তিনি অভিযোগ করেন, এটা শুধু প্রতারণা না, এটা মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি খেলা।
এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আরও অনেক ক্রেতা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই একই কৌশলে সাধারণ মানুষকে ঠকানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বাজারের কিছু মাছ বিক্রেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা বলেন, মাছ কাঁচামাল, মাঝে মাঝে নষ্ট হতেই পারে। আমরা কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করি না। যদি সব ঠিকই থাকে, তাহলে কেন ঘরে নেওয়ার পরই মাছ থেকে পচা গন্ধ বের হয়? কেন একই অভিযোগ বারবার আসছে? কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ বাজার? এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, কঠোর নজরদারি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।