[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের ইনচার্জের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ!

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

সাতক্ষীরার শহরের মিল বাজারে অবস্থিত সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলের রাষ্ট্রায়াত্ব সম্পদ যেন ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করেছে বিতর্কিত টেক্সটাইল মিল ইনচার্জ শফিউল বাশার।

প্রায় ৩০ একর জমি নিয়ে ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরার অর্থনীতি ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে লক্ষে
সৃষ্টি হওয়া একমাত্র রাষ্ট্রয়াত্ব মিলটি আজ ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

দক্ষীণ পশ্চিমাঞ্চলের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তের সম্পদগুলো আজ নানা অনিয়মে মধ্যে পরিচালনা হচ্ছে।
বর্তমানে সরকারি ভাবে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
যার ফলে আগের মত লোকচলাচল না থাকায় অচলাবস্থা বিরাজ করছে মিল অভ্যন্তরে।
সেই সুযোগে টেক্সটাইল মিল এলাকায় থাকা সরকারি সম্পদ হচ্ছে হরিলুট। আর এই হরিলুট করছেন খোদ মিল ইনচার্জ শফিউল বাসার।
যার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন শেষ নেই, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, কোন টেন্ডার ছাড়াই মালামাল বিক্রয়, টেন্ডার ছাড়া পুকুর থেকে বালু ও মাটি বিক্রয়, আলাদা বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা, পুকুরের মাছ বিক্রয়, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিক থেকে টাকা আত্মসাৎ করা, বহিরাগতদের ঘর ভাড়া দিয়ে সেখান থেকে টাকা আত্মসাৎ করা, সরকারি গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির।

সরেজমিনে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সরকারের আমলে প্রভাব খাটিয়ে তালতলা এলাকার মাটি ব্যবসায়ী জৈনেক ব্যক্তিকে দিয়ে পুকুরে মাটি কেটে বাইরে বিক্রি করা হয়। সে সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়।
পরবর্তীতে ২৪ এর ৫ ই আগস্ট সরকার পরিবর্তনের সুযোগে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে মিলের ইনচার্জ দুর্নীতিবাজ শফিউল বাসার! যার ফলে সে সময়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতক্ষীরার সমন্বয়ক আল ইমরান ও ইমু সহ সাধারণ ছাত্ররা সেখানে অভিযান পরিচালনা করে।
কোন টেন্ডার ছাড়াই মালামাল বিক্রয়, টেন্ডার ছাড়া পুকুর থেকে বালু ও মাটি বিক্রয়, আলাদা বিদ্যুৎ বিল তৈরি করা, পুকুরের মাছ বিক্রয়, দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিক থেকে টাকা আত্মসাৎ করা, বহিরাগতদের ঘর ভাড়া দিয়ে সেখান থেকে টাকা আত্মসাৎ করা, সরকারি গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা। তবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগের সঠিক কোন উত্তর দিতে পারেননি টেক্সটাইল মিল ইনচার্জ শফিউল বাশার। এক পর্যায়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা নিদ্রিষ্ঠ সময়ের মধ্যে তাকে এসব অভিযোগ সম্পর্কে সঠিক ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য সময় দেওয়া হয়। আগষ্ট পরবর্তীত অন্তরবর্তী কালীন সরকারের টালমাটাল পরিস্থিতিতে সবকিছু গুলিয়ে যায়। সম্প্রতী ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বর্তমান সরকারের আমলেও যেন একই দশা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা শফিউল বাশারের। পূর্বের অভিযোগের লাগাম টেনে ধরতে না পারায় আরো বেপরোয়া তিনি। আর এর সাথে সহযোগিতা করছেন তারই অধীনস্থ কর্মচারীরা। ২০১৩ সালে যোগদান করা এই কর্মকর্তা একই স্হানে দীর্ঘ ১৩ বছর স্বপদে বহাল থাকায় নিজের সম্পত্তির মতই ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ অনেকের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্হানীয় অনেকে বলেন, আমরা সারাজীবন মিলের ভিতরে ঘাস কেটে গরু ছাগলের খাবার যোগাতাম কিন্তু এই সাহেব আসার পর থেকে ঘাস কাটতে হলেও টাকা দিতে হবে বলে জানান। তার দাপটে মিল অভ্যন্তের কর্মচারীরাও ভীতসন্ত্রস্ত । নাম না বলার শর্তে , এক কর্মচারীর বলেন , শফিউল স্যার যোগদান করার পর মিল অভ্যন্তরের ফলজ গাছের সকল সম্পদ নিজ ইচ্ছায় বিক্রি করে দেন।
এসব নিয়ে নানা সময় সংবাদ হলেও কিছুই হয়নি তার।
বাসা ভাড়া নেওয়া এক ভাড়াটিয়ার কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমরা নিচতলার ১টা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকি,মাসিক ৩৬ শত টাকা ভাড়া,
বিদ্যুৎবিল চলতি মার্চ মাসে ১৮৫০ টাকা দিতে হয়েছে। ২ টা বিল্ডিং এ থাকা প্রায় ২০ টি ফ্ল্যাট ও টিনশেট মিলে ৭০/৮০ টি পরিবার মিল অভ্যন্তরে ভাড়া থাকে বলে জানা যায়। এ বিষয়ে মিলের সিকিউরিটি ইনচার্জ বাদশা আলম দেখভাল করেন। বাদশা আলমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা মিলের মধ্যে ১৭ জন কর্মচারী কাজ করি। সমস্ত বাসা ভাড়া ও কারেন্ট বিলের টাকা তুলে কি করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যারের নির্দেশ মত কাজ করি স্যার টাকাগুলো কিভাবে কি করেন তা আমরা জানি না। এবিষয়ে মিল ইনচার্জ শফিউল বাসারের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি এসব বিষয় এড়িয়ে যান। বাংলাদেশ বস্তু শিল্প করপোরেশন (বিটিএমসি)এর ২৯.৪৭ একরের অভ্যন্তরে সকল সম্পদ একজন কর্মকর্তা নিজস্ব সম্পদে পরিনত করেছেন বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও কোনরূপ শাস্তি বা বদলি না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুশীল সমাজ। এমতাবস্থায় দুর্নীতিবাজ মিল ইনচার্জ শফিউল বাসার কে বদলী পূর্বক ঐতিহ্যবাহী সাতক্ষীরা সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটির শাসন ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করার দাবি এলাকাবাসীর।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।