[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]

চিকিৎসা নয়, নিপীড়ন: ভূয়া ডাক্তারের হাতে জিম্মি অভয়নগরের মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

যশোরের অভয়নগর উপজেলা, ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই জনপদে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে এক ভয়ংকর প্রতারণার সাম্রাজ্য। চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে নির্মম ছিনিমিনি খেলছে একদল ভূয়া নামধারী ডাক্তার। প্রশাসনের নজরদারির দুর্বলতা, আইনের ফাঁকফোকর এবং কিছু অসাধু চক্রের ছত্রছায়ায় এই অনিয়ম এখন মহামারির রূপ নিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেকেই শুধুমাত্র তাদের পিতা বা পরিবারের কেউ চিকিৎসক ছিলেন, এই পরিচয়কে পুঁজি করে নিজেকে ডাক্তার দাবি করছেন। নেই কোনো স্বীকৃত ডিগ্রি, নেই রেজিস্ট্রেশন তবুও দাপটের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসা কার্যক্রম। এ যেন উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পেশা নয়, বরং প্রতারণার বৈধতা! অভয়নগরের নওয়াপাড়া ক্লিনিকপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি ক্লিনিক। বাহ্যিক চাকচিক্যে মোড়ানো এসব প্রতিষ্ঠানের ভেতরে চলছে ভয়ংকর অনিয়ম। তথাকথিত শিশু ডাক্তার পরিচয়ে একাধিক ভূয়া চিকিৎসক শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, যাদের নেই কোনো পেডিয়াট্রিকস (শিশু চিকিৎসা) সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ বা সনদ। অভিযোগ রয়েছে, এসব ভুয়া ডাক্তারদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী চক্রের কারণে। অসহায় পরিবারগুলো ন্যায়বিচার তো দূরের কথা, মুখ খুলতেও ভয় পায়। আরও ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে, কিছু ব্যক্তি নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করছেন। এই ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে তারা প্রশাসনিক চাপ এড়াচ্ছেন এবং অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। ফলে প্রকৃত সাংবাদিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। পুরো উপজেলাজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার নামে চলছে মোটা অংকের বাণিজ্য। রোগীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত বিল, অপ্রয়োজনীয় টেস্ট, এবং ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে করে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভয়নগরের শুভরাড়া, সিদ্ধিপাশা, নাওলি, হিদিয়া, চাপাতলা, প্রেমবাগ, মাগুরা, সুন্দলীসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং নওয়াপাড়া পৌরসভায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহর, সবখানেই ভূয়া ডাক্তারের দৌরাত্ম্য বিস্তৃত।

সচেতন মহল বলছে, এখনই কঠোর অভিযান ও নিয়মিত মনিটরিং না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক বন্ধ, এবং ভুয়া ডাক্তারদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

অভয়নগরে স্বাস্থ্যসেবার নামে যে প্রতারণা চলছে, তা শুধু অনিয়ম নয়, এটি সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন। মানুষের জীবন নিয়ে এমন নির্মম খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখনই সময়, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে এই মরণব্যবসা’ বন্ধ করার। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, উপজেলা জুড়ে  ওইসব চিকিৎসকদের তথ্য পেলে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। স্বাস্থ্য সেবাকে উন্নয়ন করায় আমাদের কাজ, আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুতই ওইসব চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ রফিকুল ইসলাম রনি-০১৭১৩-৫৮২৪০৬, নির্বাহী সম্পাদক মোঃ রায়হান আলী-০১৭৫১-১৫৫৪৫৫, বার্তা সম্পাদক মোঃ সিরাজুল ইসলাম আপন-০১৭৪০-৩২১৬৮১। বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ মেছের উদ্দিন সুপার মার্কেট ভবন, হান্ডিয়াল বাজার, চাটমোহর, পাবনা থেকে প্রকাশিত। ঢাকা অফিসঃ তুষারধারা, আর/এ, সেক্টর ১১, রোড নং ০৭, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১৩৬২। বার্তা কার্যালয়ঃ অষ্টমনিষা বাজার, ভাঙ্গুড়া, পাবনা। প্রকাশক কর্তৃক সজল আর্ট প্রেস, রূপকথা গলি, পাবনা থেকে মুদ্রিত। মোবাইল নম্বর-০১৭৪৯-০২২৯২২,ই-মেইল- newscbalo@gmail.com / editorcbalo@gmail.com / www.chalonbileralo.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ ©2017-2025 (এটি গণপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত সাপ্তাহিক চলনবিলের আলো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ) অনলাইন নিবন্ধন আবেদনকৃত। আবেদন নম্বর- ২১৮৮।