পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বিনা নোটিশে আশ্রায়ন প্রকল্পের সরকারি ঘর উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে এক আইনজীবির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছে দু’টি অসহায় পরিবার।যারা এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় হতাশায় ভুগছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় আইনজীবি রামেন্দ্র চন্দ্র পাল সেই সম্পত্তির মালিক দাবী করে কোর্ট এবং আটোয়ারী থানা পুলিশের উপস্থিতিতে স্কেভেটর দিয়ে আশ্রায়ন প্রকল্পের সরকারি ঘরগুলো ভেঙ্গে দিয়েছেন। অ্যাডভোকেট (আইনজীবি) রামেন্দ্র চন্দ্র পাল জানান, ২০২২ সালে পঞ্চগড় কোর্টে একটি মামলা করি। ২০২৪ সালে মামলার রায় পেয়ে ২০২৫ সালে ডিগ্রি জারি করেন এবং ২০২৬ সালে উচ্ছেদের পরোয়ানা জারি করি। এর প্রেক্ষিতে পঞ্চগড় কোর্টের উচ্ছেদ আদেশের পত্র নিয়ে আসি। পরে কোর্টের লোক এবং আটোয়ারী থানা পুলিশের উপস্থিতিতে স্কেভেটর দিয়ে সেই ঘরগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়। কোর্ট আমাকে আমার দখল বুঝিয়ে দিয়েছেন। তবে, অভিযোগ রয়েছে উচ্ছেদের আগে সেই ঘরের মালিক বা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে কোনো ধরণের নোটিশ প্রদান করা হয়নি। জানা যায়, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়ে ভূমি ও গৃহহীনদের জন্য সরকারিভাবে ঘর তৈরী করা হয়েছিল। উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের যুগিকাটা এলাকায় বসবাসরত দু’টি অসহায় পরিবারকে কোন ধরণের পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা না করেই হঠাৎ তাদের ঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়। এতে পরিবারগুলোর সদস্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের দাবী, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই সরকারি ঘরেই বসবাস করে আসছিলেন। হঠাৎ উচ্ছেদের কারণে তাদের যাবতীয় মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আটোয়ারী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ধামোর ইউনিয়নের যুগিকাটা মৌজার ১৬ নং জেএল এর ৯৫ নং খতিয়ানের এবং ১৮৯৬ নং দাগের ১২ শতকের মধ্যে ৯ শতক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। খতিয়ানের মালিক গাগেলের ছেলে হাওয়া বর্মন তৎকালীন সময়ে এদেশ থেকে ভারতে চলে যান। পরে ১৯৬২ সাল থেকে জমিতে ভোগ দখল না থাকায় এবং ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া থাকা সহ জমির মালিকানা কেউ দাবী না করায় লা-ওয়ারিশ জমি হিসেবে খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয়। এরপরে সেটি পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ৯২ (গ) ধারা মোতাবেক খাস ঘোষনা করা হয়। যার মিস কেস নং ছিল ীররর/২৮/২০২১-২২। ভুক্তভোগীরা বলেন,আমরা গরীব মানুষ, সরকারের দেওয়া ঘরেই কোন রকমে দিন কাটাচ্ছিলাম। হঠাৎ ঘর ভেঙ্গে ফেলায় আমরা এখন কোথায় আশ্রয় নিব। শিশু বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব। ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের কোন ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়নি। যদি আগে জানানো হতো, তাহলে আমরা অন্য কোথাও আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতাম। এখন আমরা একবারে নিরুপায় হতাশাগ্রস্ত।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিপামনি দেবী জানান, আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি যে, আমাদের আশ্রায়ন প্রকল্পের সরকারি ঘর উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পরে জানতে পারি যে, ঘরগুলো আমাদের সরকারি খাস জমিতে ছিল। কিন্তু আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে উচ্ছেদ অভিযানে আমরা বাধা প্রদান করিনি। এছাড়া ঘরগুলো উচ্ছেদের বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। এই জমি নিয়ে মামলার বিষয়েও উপজেলা প্রশাসন অবগত ছিল না। আর যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে সে বিষয়েও আমরা কেউ কোনো নোটিশ পাইনি। কোর্টে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই মামলার মোকাবিলা করা হবে বলে তিনি জানান।
[bangla_day] , [english_date] || [bangla_date] - [bangla_season] || [hijri_date]
আটোয়ারীতে বিনা নোটিশে সরকারি ঘর উচ্ছেদ ! দিশেহারা ভূমি ও গৃহহীন দু’টি পরিবার
প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬