পাবনার ভাঙ্গুড়ায় একটি দিঘীর কাদামাটি থেকে প্রাচীন কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের সরকারি লালদীঘি পুকুর থেকে মূর্তিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। মূর্তিটি দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা জব্বার হোসেনের প্রায় ১২ বছর বয়সী মেয়ে পুকুরের কাদামাটিতে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ একটি অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পায়। কৌতূহলবশত সেটি হাতে তুলে দেখার চেষ্টা করলে বুঝতে পারে এটি সাধারণ কোনো বস্তু নয়। পরে সে বিষয়টি তার মাকে জানায় এবং পরবর্তীতে তার বাবাকে অবহিত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলী জনতা পুকুরপাড়ে ভিড় করতে শুরু করে। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই ধারণা করেন, এটি প্রাচীন কালের কোনো দেবতার মূর্তি হতে পারে। পরে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিষয়টি খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠুকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে খানমরিচ ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থল সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মুস্তাফিজুর রহমানকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত প্রায় ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে থানার হেফাজতে রাখে। উদ্ধার হওয়া মূর্তিটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপাস্য দেবতা বিষ্ণুর মূর্তি বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূর্তিটি কষ্টিপাথর দিয়ে তৈরি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন স্থানীয়রা। মূর্তিটির উচ্চতা প্রায় ১৪ ইঞ্চি, প্রস্থ প্রায় ১২ ইঞ্চি এবং ওজন আনুমানিক সাড়ে ৯ কেজি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মূর্তিটি উদ্ধার করে থানার হেফাজতে নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিষ্ণু দেবতার মূর্তি। মূর্তিটির প্রকৃত ইতিহাস, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব ও মূল্য নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।