ভুল অপারেশনে নবজাতকের মায়ের মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে অভয়নগর। যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে কথিত ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার শিকার হয়ে এক নবজাতকের মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
নিহত সাথী খাতুন (২৬) উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইকরামুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। নিহতের স্বামী ইকরামুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, গত ৫ মার্চ সাথী খাতুনকে নওয়াপাড়া ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিনই সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।
অপারেশনের পর চিকিৎসক ডা. মোঃ মনজুরুল মোরশেদ পরিবারকে জানান, জরায়ুতে সামান্য সমস্যা ছিল, তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় বিপর্যয়। অপারেশনের পরপরই রোগীর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে
সাময়িকভাবে অক্সিজেন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়, ৭ দিন পর সেলাই কেটে রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়, কিন্তু বাড়ি ফেরার মাত্র দুই দিনের মাথায় আবারও জটিলতা দেখা দেয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত সাথী খাতুনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান, জরায়ুর ভেতরে পানি জাতীয় পদার্থ জমে আছে জরুরি ভিত্তিতে পুনরায় অপারেশন প্রয়োজন ১৮ মার্চ অপারেশন করে দেখা যায়, ভুলভাবে সেলাই দেওয়ার কারণে জরায়ুর ভেতরে পচন ধরে পুঁজ জমেছে। চিকিৎসকরা সংশোধনমূলক অপারেশন করলেও এরপর আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি সাথী। দীর্ঘ ৯ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান।
পরিবারের দাবি, ডেথ সার্টিফিকেটেও আগের অপারেশনের জটিলতাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা পুরো ঘটনাকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নওয়াপাড়ার ওই বেসরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে, অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন ভুল চিকিৎসা
রোগী মৃত্যুর অভিযোগ চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালটির মালিক ডা. মনজুরুল মোরশেদ অতীতে খুলনা বিভাগের একজন প্রভাবশালী পদে থাকায়, যশোর সিভিল সার্জন অফিস কখনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বারবার অভিযোগ উঠলেও কোনো জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়নি। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন, আর কত প্রাণ গেলে প্রশাসন জাগবে? চিকিৎসার নামে এমন অবহেলার বিচার কবে হবে? প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কি চলতেই থাকবে এই অনিয়ম? সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, হাসপাতালের কার্যক্রম পর্যালোচনা
নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো, অবহেলা আর জবাবদিহিতার অভাবে দেশের বেসরকারি চিকিৎসা খাতের একটি অংশ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই মৃত্যুর পর প্রশাসন সত্যিই নড়েচড়ে বসে, নাকি এটিও হারিয়ে যাবে অভিযোগের স্তুপে। এবিষয়ে নওয়াপাড়া ফাতেমা (প্রাঃ) হাসপাতালের পরিচালক ডা. মনজুরুল মোরশেদ মুঠোফোনে জানান, আমার এখানে অপারেশনে রোগী সুস্থ হয়ে সেলাই কেটে ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছে, এরপর কোন সমস্যা হলেও আমাদের এখানে নিয়ে আসেনি, যে কারণে ওই রোগী কি জন্য মারা গেছে বলতে পারবোনা। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, এবিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।