কক্সবাজারের ভারুয়াখালী ইউনিয়নে নারী শিক্ষার আলোকবর্তিকা ‘ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন সৌদি আরব ভারুয়াখালী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব মোস্তাফিজুর রহমান সিকদার। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ নূর-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র আইনজীবী জনাব মোহাম্মদ ছলিম উল্লাহ বলেন, “একটি শিক্ষিত মা একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দিতে পারে। ভারুয়াখালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এই অঞ্চলের অবহেলিত জনপদে নারী শিক্ষার যে ভিত্তি স্থাপন করেছে, তা আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।” প্রধান বক্তা মাওলানা এনামুল হক (মুহাদ্দিস, হাশেমিয়া কামিল মাদ্রাসা) ছাত্রীদের নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আইন অঙ্গনে বিশেষ অবদানের জন্য বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চারজন কৃতি আইনজীবীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণকালে তারা ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন:
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নেজামুল হক: “স্বপ্ন দেখতে ভয় পেও না। আজ তোমরা যে আঙিনায় খেলাধুলা করছ, এখান থেকেই একদিন দেশের বড় বড় প্রশাসনিক পদে আসীন হবে। শুধু কঠোর পরিশ্রম আর লক্ষ্য স্থির রাখলেই সাফল্য নিশ্চিত।”
অ্যাডভোকেট আবু হেনা মোঃ মোস্তফা কামাল (এপিপি): “আইন ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। বর্তমান যুগে মেয়েদের পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। তোমরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে—এটাই প্রত্যাশা।”
অ্যাডভোকেট শওকত ওসমান: “প্রযুক্তির এই যুগে নিজেদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলো। পড়াশোনার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের বাইরের জগৎ সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করতে হবে। মনে রেখো, জ্ঞানই আসল শক্তি।”
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শাকিল (এপিপি, চট্টগ্রাম): “সুযোগ সবার জীবনে আসে, কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে হয় মেধা দিয়ে। তোমরা ভারুয়াখালীর গর্ব। তোমাদের প্রতিটি সাফল্য এই বিদ্যালয়ের মুখ উজ্জ্বল করবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ ছুরত আলম (পরিচালক, পাহাড়িকা মডেল একাডেমী) এবং আ জ ম শাহাবুদ্দীন (প্যানেল চেয়ারম্যান) বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে এম এ কাসেম (MUP), ব্যাংকার শাহাদত হোসেন, আবছার কামাল (UNHCR), প্রকৌশলী রমিজুর রহমান, ইউনিয়ন ব্যাংকের জাহেদ উল্লাহ এবং জহিরুল ইসলাম (মেগামার্ট) সহ অসংখ্য গুণীজন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ২০২৩ সালের ‘স্টুডেন্ট অব দি ইয়ার’ ক্রেস্ট এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ছাত্রীদের হাতে মেডেল ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। প্রথমবারের মতো অভিভাবকদের জন্য আয়োজিত ক্রীড়া ইভেন্টটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল হুদা।
সবশেষে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূর আগত সকল অতিথি ও অভিভাবকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।