কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কবিতা চত্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ছাত্রদল নেতা খোরশেদ আলম (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ।
আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর থেকেই জেলা পুলিশের একাধিক টিম গোয়েন্দা নজরদারি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীসহ মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং ছিনতাইকৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, “গত মঙ্গলবার রাতে খোরশেদ আলম তার এক পরিচিত নারীসহ কবিতা চত্বর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় একদল চিহ্নিত ছিনতাইকারী তাদের ঘেরাও করে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। খোরশেদ সাহসিকতার সাথে বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।”
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত খোরশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইসুলুর ঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও বলেন, “কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। খোরশেদ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশের টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।”
এসময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।