১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী মাসে প্রতিষ্ঠিত সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা পারের বিদ্যাপিঠ চৌহালী মহাবিদ্যালয়। দীর্ঘ এ পথ চলার চৌহালী সরকারি কলেজের ৫০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ এ পথ পরিক্রমায় দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের গ্রাম গঞ্জের এ শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত হয়েছে চৌহালী ডিগ্রী কলেজ পরে চৌহালী সরকারি কলেজ।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যে নয় কলেজটি উপজেলার খাষকাউলিয়া ইউনিয়নের কুরকি মৌজায় জোতপাড়া বাজারস্থ শিরীষগাছ গুলের মতই দেশে শিক্ষায় অবদান রেখে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছে কলেজটি।
রাজধানীর অধুর প্রান্তে অজো পাড়া গায়ে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠী সহ অন্যান্য অঞ্চলের মানুষকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আলোয় আলোকিত ডিজিটাল বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী চৌহালী মহাবিদ্যালয় কলেজটির যাত্রা শুরু হয়।
স্বাধীনতা পূর্ব ও উত্তর কালে চৌহালী উপজেলায় উচ্চ শিক্ষার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো না। তখন এই উপজেলায় পশ্চাৎপদ অনগ্রসর বিশাল গ্রামীণ জন গোষ্ঠির উচ্চ শিক্ষার কথা বিবেচনা করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী শহীদ এম মনছুর আলীর নির্দেশে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মরহুম আঃ মমিন তালুকদারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭২ সালে চৌহালী থানার নামানুসারে চৌহালী মহাবিদ্যালয়ের নাম করণ করা হয়।
বর্তমান কলেজটিতে যমুনা ও ধলেশ্বরি নদী বেষ্টিত ভাঙ্গা গড়া এলাকার অবহেলিত ও হতদরিদ্র মানুষের সন্তানেরা সহজে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে তাদের লালিত স্বপ্ন পুরণ করতে সক্ষম হচ্ছে।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলেজটি জাতীয় করনের আদেশ প্রাপ্ত হয়।
১/১/১৯৭২ সালে কলেজ
প্রতিষ্ঠাকালীন দায়িত্ব প্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো, আবু বকর সিদ্দিক।
বর্তমান দায়িত্ব প্রাপ্ত ( ভার,) অধ্যক্ষ মো, আঃ মান্নান মিয়া। বর্তমান শিক্ষক – কর্মচারি ৩৩ জন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ছয় শত । মোট জমির পরিমান ১১,০৪ একর।
কলেজ প্রতিষ্ঠা কালীন সময়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি যাদের অবদান অনস্বীকার্য সদস্যরা হলেন আলহাজ আঃ রহিম, ফজলুল রহমান মাষ্টার, আকতার হোসেন, ডা, আবুল হোসেন, আফসার মুন্সী, শহিদুর রহমান গোলজার, সুলতান মাষ্টার, আবুল হোসেন, মাইন উদ্দীন মোল্লা, শের আলী হারকাটি, বেল্লাল উদ্দিন সরকার, আবুল বাসার মাষ্টার, আলহাজ রজব আলী, আজিজ ফকির, মতি ফকিরসহ অনেকেই।
দীর্ঘ ৫০ বছরের পথচলায় এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন বরেণ্য শিক্ষক মন্ডলীরা। এখানকার ছাত্ররাজনীতির দীকপালরা দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে কলেজের সুনাম বয়ে আনছেন।
বর্তমানে কলেজটিতে ১টি দো-তলা, ২সেমি পাকা ভবন, টিন সেড ৯টি সেমি পাকা টিন সেড ঘর রয়েছে ৷ যার মধ্যে টিন সেড দুইটি ঘরের ৪টি কক্ষে ক্লাস হচ্ছে ৷ এক তলায় শিক্ষকগণ অফিস ও বসবসস করেন,বাকী সবজগুলো কক্ষ উপজেলা প্রশাসনের দখলে ৷
সব দিক থেকে বর্তমান শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা যেমন সামন তালে এগিয়ে যাবার সাহস পান, তেমনি প্রতিবন্ধকতা ও স্বল্প করে । কলেজ ক্যাম্পাস থানা ও প্রশাসনের দখলে এবিষয়ে প্রশাসন কতটা কার্যকরি ব্যবস্থা নিচ্ছেন তা ভাবার বিষয়।
শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীদের সব মিলিয়ে কঠিন সংকটে, নিরাশনের প্রচেষ্ঠা নেই ! নেই উপজেলা পরিষদের নিজস্ব কমপ্লেক্স ও জমির ক্রয়ের টেন্ডার।
মানুষ বা প্রতিষ্ঠান যাই হোক না কেন,অন্য মানুষ বা বৃহৎ পরিসরে জাতির কল্যাণে কাজ করতে না পারলে কেউই মনে রাখে না এবং পথচলায় হোচট খেতে হয় মাঝে মধ্যেই। আমরা সবই বিশ্বাস করি, চৌহালী সরকারি কলেজটি নিজেদের কর্মের মাধ্যমে স্ব-মহিমায় যুগ যুগ ধরে টিকে থাকবে।৷
#চলনবিলের আলো / আপন